কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অটো রিক্সা চুরির অভিযোগে মোঃ আবু সিয়াম নামের এক পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে সাধারন জনতা। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ভৈরব থানায় কন্সটেবল পদে কর্মরত আছেন।
আজ (২৩ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে পৌর শহরের স্টেশন রোডে এঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছে জনতার হাত থেকে ওই পুলিশ কন্সটেবলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কন্সটেবলের শাস্তির পাশাপাশি চুরি হওয়া অটো রিক্সা উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
হৃদয় মিয়া নামে এক ভুক্তভোগী অটো রিক্সা চালক জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরের দশ তারিখে তার কিস্তিতে কেনা অটো রিক্সাটি চুরি হয়ে যায়। চুরি হওয়ার আধ ঘন্টার মধ্যেই চালক হৃদয় মিয়ার মুঠোফোনে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে এবং ২০হাজার টাকা নিয়ে নরসিংদীর ইটাখলায় গিয়ে তার চুরি যাওয়া অটো রিক্সাটি ফেরত আনতে বলা হয়। পরে চালক হৃদয় মিয়া কথা অনুযায়ী টাকা নিয়ে গিয়ে ওই নাম্বারের কল দিলে নাম্বারটি বন্ধ দেখায়। পরবর্তিতে ওই অপরিচিত মোবাইল নাম্বারটি চালক হৃদয় মিয়া তার মুঠোফোনে সেভ করে ডাটা অন করলে নাম্বারটি ব্যবহার করে খোলা একটি ইমু আইডি সামনে আসে। আইডির প্রোফাইল পিকচার হিসেবে সেট করা থাকে ওই অভিযুক্ত পুলিশ কন্সটেবল আবু সিয়ামের ছবি।
পরবর্তিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পৌর শহরের পলাশের মোড় এলাকায় কন্সটেবল আবু সিয়ামকে দেখতে পেয়ে এক রিক্সাচালক ওই অটোরিক্সা চালক হৃদয়কে খবর দিলে হৃদয়সহ আরো কয়েকজন অটোকিক্সাচালক পুলিশ কন্সটেবলকে অনুসরণ করেন। টেরপেয়ে ওই পুলিশ কন্সটেবল দৌড়ে পালানো সময় তাকে আটক করতে সক্ষম হয় অটোচালকরা। পরে গণপিটুনি দেওয়ার সময় আটকৃত যুবক নিজেকে পুলিশ কন্সটেবল বলে পরিচয় দিলে থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ভৈরব থানার সিনিয়র উপ-পরিদর্শক মোঃ মোখলেছুর রহমান রাসেল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের জিম্মায় আটকৃত কন্সটেবলকে থানায় নিয়ে যায়।
এছাড়াও জীবন, মানিকসহ একাধীক অটোচালকরা আরো জানান, হৃদয় মিয়ার অটোসহ বিগত কয়েকমাসে এ এলাকা থেকে অন্তত পাচঁটি অটো রিক্সা চুরি হয়েছে এবং সবকটি চুরির ঘটনা বৃহস্পতিবারেই হয়েছে। এছাড়াও অপরিচিত নাম্বারের ইমু আইডির প্রোফাইল পিকচারের সাথে কন্সটেবল আবু সিয়ামের হুবুহ মিল রয়েছে। তাই এই কন্সটেবলকে দৃষ্ট্রান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে চুরি হওয়া অটোরিক্সা উদ্ধারে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কন্সটেবল আবু সিয়াম। তিনি জানান, আমি চুল-দাড়ি কাটার উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় গিয়েছিলাম। ভুল বুঝে তারা আমার উপর আক্রমণ করেছেন। সিভিল পোশাকে মাদকসহ নানা অপকর্মের স্পর্শকাতর একটি এলাকার সেলুনে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি।
এবিষয়ে সিনিয়র উপ-পরিদর্শক মোঃ মোখলেছুর রহমান রাসেল জানান, একটি ছবি দেখে আমাদের পুলিম কন্সটেবলকে চোর সন্দেহে সাধারন জনগণ তাকে আটক করেন। আমাদের ওসি সাহেব কিশোরগঞ্জ অবস্থান করছেন। তিনি আসলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।