ভৈরবে বঙ্গবন্ধু সরণির পাশে বাজাজ মোটরসাইকেল শো-রুমের সার্ভিস সেন্টারে মোটর সাইকেলের প্লাগ এর স্পার্কিং থেকে তেলের ট্যাংকী বিস্ফোরণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। মেরামত করা অবস্থায় মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়ে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ২০লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান শো-রুমের মালিক। এসময় সার্ভিসিং সেন্টারের ৩জন টেকনিশিয়ান গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়। তাদের ৩জনকে প্রাথমিকভাবে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার অবস্থার অবনতি দেখে তাদের তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের র্বাণ ইউনিটে প্রেরণ করেন। অগ্নিদগ্ধরা হলেন রাখাল (২৮), সাইফুল (২৫) ও হৃদয় (২৭)। তাদের মধ্যে সাইফুলের শতভাগ অংশ এবং রাখাল ও হৃদয়ের শরীরের ৭০ভাগ অংশ পুড়ে গেছে বলে জানায় কর্তব্যরত চিকিৎসক।
ভৈরব ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু সরণি সড়কের পাশে অবস্থিত বাজাজ মোটরসাইকেল শো-রুম এর সার্ভিসিং সেন্টারে ৩জন টেকনিশিয়ান ১টি মোটরসাইকেলকে মেরামত করছিল। মেরামতের এক পর্যায়ে মটরসাইকেলের প্লাগ স্পার্কিং থেকে হঠাৎ হালকা বিস্ফোরণে মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংকীর থেকে আগুন জ্বলে উঠে। আগুন সাথে সাথে ৩জন টেকনিশিয়ানের সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৩জন টেকনিশিয়ানই অগ্নিদগ্ধহয়। অগিদগ্ধে সার্ভিসিং সেন্টারটি পুড়ে যায়। সার্ভিসিংরত আরো ৩টি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়ে গেছে। সাথে সাথে ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আধা ঘন্টার চেষ্টা করার পর আগুনে নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। ঘটনার সময় বঙ্গবন্ধু সরণি যান চলাচল বন্ধ হলে ভৈরব থানা পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাস্তার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনে।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ তামজীদুস সিফাত জানান, অগ্নিদগ্ধ ৩জনেরই অবস্থা এতই আশংঙ্কাজনক যে, আমরা ৯৯৯ ফোন করে এ্যাম্বোলেন্স ডেকে তাদের ৩জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করেছি। । তাদের ৩জনই মুখমন্ডলসহ সারা শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভানোর কাজ শুরু করি, কিন্তু পেট্রোল জাতীয় পদার্থের কারণে আগুন নেভাতে কিছুটা সময় লাগে। অগ্নিকান্ডে শো-রুমে থাকা বেশ কয়েকটি মটরসাইকেলসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র পুড়ে আনুমানিক বিশ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি।