কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে হাইওয়ে রাস্তার পাশে একটি ঝোপের ভিতর ড্রেনের মধ্যে অচেতন অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক মধ্য বয়সী নারীকে পড়ে থাকতে দেখে সবাই যখন ওই নারীর মরে যাওয়ার অপেক্ষায় মৃত্যুর দৃশ্য দেখতে ব্যস্ত। তখন ভীড় দেখে পাশ দিয়ে যাওয়া এক সাংবাদিক এই করোনাকালীন সময়ে নিজের মৃত্যু ভয় পিছনে ফেলে, প্রায় মৃত্যু মুখে পতিত অজ্ঞাত অচেতন নারীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলো।
মানবিক ওই সাংবাদিক দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার কুলিয়ারচর উপজেলা প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, বিকাল বেলায় কুলিয়ারচরের উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যখন লোকমানখাঁ কান্দি গ্রামের সামনে হাইওয়ে রাস্তার পশ্চিম পাশে ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন ঝোপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন লক্ষ্য করি, অনেক নারী পুরুষ জড়ো হয়ে কিছু একটা দেখছে। কৌতূহল হলে নেমে দেখি, ঝোপের ভিতর একটি ড্রেনের মধ্য অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি মধ্য বয়সী নারী গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছে। তখন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানতে পারি এই মহিলা প্রায় ৩ দিন ধরে এখানে এভাবে পড়ে আছে।
ঘটনা শুনে এই করোনাকালীন সময়ে নিজের মৃত্যু ভয় পিছনে ফেলে স্থানীয় দুইজন মহিলা লোকমানখাঁর কান্দি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী রুবেল মিয়ার স্ত্রী লাইলী বেগম (৩৫) ও এমাদ মিয়ার স্ত্রী লিমা (২৫) দ্বয়ের সহযোগীতায় তাঁকে উদ্ধার করে অটোরিকশা ওঠায়। পরে স্থানীয় আরও কয়েকজন নারী সাংবাদিক সহ পুরুষ সাংবাদিকের সহায়তায় ওই নারীকে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি ।
সোমবার (৫ জুলাই) বিকালে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের রাস্তার পাশে ওই অজ্ঞাত নারীকে দেখতে পাওয়া যায়।
পরে ওই নারীকে কুলিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও আয়াকে দেখাশোনা করার জন্য সহযোগিতা কামনা করে এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবহ করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন সাংবাদিকরা।
এসময় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে অজ্ঞাত ওই মহিলা মৃদু স্বরে তাঁর নাম নাছিমা বলে জানায়, তাৎক্ষনিকভাবে আর কিছু বলতে পারেনি। বর্তমানে ওই নারী কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয় সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সাংবাদিকরা তার নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন এবং প্রয়োজনী সকল সহযোগিতায় পাশে আছেন।