পরিষ্কার নীল আকাশ, শুভ্র সাদা মেঘের ভেলা আর শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাসে শরতের প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজেছে। ভাদ্রের শেষ প্রান্তে এসে প্রকৃতি মেতে উঠেছে এক অপার মায়ায়। দিনে তীব্র রোদ থাকলেও দিনশেষে নেমে আসে শান্ত সন্ধ্যা। সন্ধ্যার পর গৃহমুখী পশু-পাখি ও মানুষের ক্লান্ত ফেরার দৃশ্য গ্রামবাংলায় তৈরি করে এক নিবিড় আবহ। ভোরের হালকা কুয়াশা জানান দিচ্ছে—দ্বারে কড়া নাড়ছে হেমন্ত।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক চরপুমদী গ্রামে এখন বিরাজ করছে এমনই এক মনোরম পরিবেশ। গ্রামের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তরজুড়ে ধানের খেতগুলো ধীরে ধীরে পাকতে শুরু করেছে। প্রতিটি ধানের শীষে দানা বাঁধছে কৃষকের রক্ত-ঘামে অর্জিত ফসল। ধানের এই অগ্রগতিতে স্থানীয় কৃষকদের মনে জেগেছে সোনালি সাফল্যের প্রত্যাশা।
দিন-রাত পরিশ্রম করে কৃষকেরা এখন মগ্ন খেতের নিবিড় পরিচর্যায়। নতুন ধানের শীষে দোলা দেওয়া বাতাস যেন তাদের মনে নতুন স্বপ্নের বার্তা দিচ্ছে। ভাদ্রের ব্যস্ত সময় পেরিয়ে মাঠে এখন ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতির আবহ। চরপুমদীর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দুলতে থাকা আমন ধান শুধু ঋতু পরিবর্তনের বার্তাই দিচ্ছে না, বরং কৃষকের ঘরে ঘরে সমৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, চলতি মৌসুমে হোসেনপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় মোট ৮ হাজার ২৫১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি হেক্টর জমিতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ টন হারে মোট ৩৩ হাজার থেকে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের রোগবালাই দমন, সঠিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দিচ্ছেন। ছবিতে হোসেনপুরের একটি প্রদর্শনী প্লটে কৃষি কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের দৃশ্য দেখা যায়।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সময়মতো সার, বীজ ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ায় এবার ধানের খেতের অবস্থা বেশ ভালো। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলন হবে এবং ঘরে সোনালি ফসল তুলতে পারবেন বলে তারা আশাবাদী।