শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

তাজমিন হত্যা: সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

জাতীয় ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে
তাজমিন হত্যা: সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন সুমন। তাঁর কাছে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না। এমনকি আঙুলের ছাপযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রও না থাকায় তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে সুমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

গ্রেপ্তার সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার তাজুল ইসলামের মেয়েকে বিয়ে করে সেখানে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন। যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটির মালিক বাগমারা এলাকার মনির হোসেন। সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়। তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর বিদ্যালয়ে যায়নি।

তাজমিনের পরিবার কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। এরপর ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায় বলে জানা গেছে।

ওই রাতেই রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিল তাজমিন। তবে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থলের পাশে পড়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করে তদন্তকারীরা। পরে তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

সন্দেহভাজন চালক গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। তবে তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সুমনের সম্পৃক্ততা এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com