মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

পাকুন্দিয়ায় একের পর এক গরু চুরি আতঙ্কে এলাকাবাসী

মোঃ মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জু, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৮৩০ বার পড়া হয়েছে
গরু চোর

দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় একের পর এক গরু চুরি হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের বাড়ি ও খামার থেকে গত ১ মাসে ৫০টিরও বেশি গরু চুরি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গরু চুরি বেড়ে যাওয়ায় কৃষক ও খামারিরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। চুরি ঠেকাতে অনেক এলাকায় রাত জেগে খামার ও গোয়ালঘর পাহাড়া দিচ্ছে কৃষকরা। কিন্তু চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এসব ঘটনায় চোরদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযুক্তদের মধ্যে পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের কলাদিয়া গ্রামের মাইজ উদ্দিন, হামির উদ্দিন ও হাসিম উদ্দিন, কুমরী গ্রামের মকুল ও সুন্দর আলী, শিমুলিয়া গ্রামের শামছুদ্দিন, চকদিগা গ্রামের মিলন মিয়া, মাছিমপুর গ্রামের বুলবুল, চরফরাদী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরটেকী গ্রামের সুজন মিয়া ও চরপাড়াতলা গ্রামের ফরিদ মিয়া রয়েছে।

 

কৃষকদের অভিযোগ, এসব চোরদের গ্রেফতার না করায় রাতে গোয়াল ঘর পাহাড়া দিয়েও গরু রক্ষা করা যাচ্ছে না। কিন্তু পুলিশের দাবি, চোরাই গরু উদ্ধারসহ চোরদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন চোরকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের ডাক্তার নুরুল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে ৫০ হাজার টাকা দামের একটি ষাঁড় চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। নারান্দী গ্রামের সোহাগ মৌলভী জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে তাঁর গোয়াল ঘর থেকে একটি গাভী চুরি করে নিয়ে যায়। গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাটুয়াভাঙ্গা গ্রামের নেকবর আলী মাষ্টারের সাড়ে ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩টি ষাঁড় ও ১টি গাভী নিয়ে যায় চোরের দল। গত ৭ ডিসেম্বর একই গ্রামের বজলুর রহমানের ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফিজিয়ান গাভী ও ঝাউগারচর গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাভী নিয়ে যায় চোরেরা। গত মাসে চকদিগা গ্রামের জিল্লুর রহমানের ৩টি গরু, বাচ্চু মিয়ার ৩টি গরু, সিরাজ উদ্দিনের ২টি গরু, রতন মিয়ার ১টি গরু ও হাবিবুলের ১টি গরু, মহিষবেড় গ্রামের চাঁন মিয়ার ১টি গরু ও হোসেন্দী মধ্যপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ১টি গরু চুরি হয়। এছাড়াও উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরপাড়াতলা গ্রামের দরিদ্র খুর্শিদ উদ্দিন জানান, গত দুই মাস আগে তাঁর গোয়াল ঘর থেকে ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ১টি ষাঁড় চুরি হয়। পরে সুজন মিয়া ও ফরিদ মিয়া নামের ২ চোরকে হাতে-নাতে ধরে ফেলেন তিনি। গরুটিকে উদ্ধার করতে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মাতাব্বরদের কাছে বিচার ও থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনও প্রতিকার পাননি তিনি।

 

পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দিন বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গরু চুরি হচ্ছে। রাত জেগে পাহাড়া দিয়েও চুরি ঠেকাতে পারছে না কৃষকরা। এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। চোরদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। ফলে চুরিও বন্ধ হচ্ছে না।

 

জাংগালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরকার শামীম আহমেদ বলেন, এ নিয়ে একাধিকবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোনও কাজ হচ্ছে না।

 

পাকুন্দিয়া থানাধীন আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত চার মাস আগে গরু চোর শিমুলিয়া গ্রামের শামছুদ্দিন ও চকদিগা গ্রামের মিলনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারা এখনো জেলে রয়েছে। এরপর থেকে এলাকায় গরু চুরির ঘটনা শোনা যাচ্ছে না। তারপরও এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on "পাকুন্দিয়ায় একের পর এক গরু চুরি আতঙ্কে এলাকাবাসী"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com