হৃদয় আজাদ :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাকিতে ধূমপান করাকে কেন্দ্র করে তিনদফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আর এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে অন্তত ১৫টি বাড়ি-ঘর। উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের মলফতনগর গ্রামের সাচ্চু মেম্বার বাড়ি ও মজনু মিয়া বাড়ির সমর্থকদের মাঝে শুক্রবার দুপুর থেকে ও শনিবার ভোর সকাল পর্যন্ত তিন দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত এলাকার লোকজনের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, গত শুক্রবার বেলা বারোটার দিকে আগানগর সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন সাচ্চু মেম্বার বাড়ির সমর্থক খুরশিদ মিয়ার দোকানে গিয়ে তার ছেলে সুজন মিয়া (২০) এর কাছে চা চায় মজনু মিয়া ছেলে শাহাজালাল (১৬)। চা পান শেষে সিগারেট নিয়ে খাওয়ার সময় দোকানদার সুজন টাকা চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মজনু মিয়ার ছেলে শাহজালাল। পরে দোকানদার সুজন উঠে এসে শাহজালালের হাতে থাকা জ্বলন্ত সিগারেটটি মাটিতে ফেলে দেয়। এতে দুজনের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে উপস্থিত লোকজন তা থামিয়ে দেয়। এখবর সুজন ও শাহজালালের বাড়িতে পৌছলে দুই বাড়ির লোকজন উত্তেজিত হয়ে প্রথম দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরক্ষণে এলাকাবসীর হস্থক্ষেপে সংঘর্ষ থেমে গেলেও বেলা তিনটার দিকে পর দুপক্ষের লোকজনের মাঝে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় দফায় দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আবারো ঝগড়া থামিয়ে দেয়। তবে ক্ষোভ মিটেনি কোনো পক্ষেরই। তাই পরদিন গতকাল শনিবার ভোর ছয়টার দিকে তৃতীয়বারের মতো সংঘর্ষে লিপ্ত হয় উভয় পক্ষ। শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তিনদফা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অনন্ত ২৫জন নারী-পুরুষ আহত হয়। মজনু মেম্বার বাড়ির আহতরা হলেন শুক্কুর মিয়া(৪০), নাজমা বেগম(৩৫), আপন মিয়া(৩০), হনুফা বেগম(৬০), সুফিয়া বেগম(৫৫), হেকিম মিয়া(২৫), উজ্জল(৩৫) ও সাচ্চু মেম্বার বাড়ির আহতরা হলেন লায়েছ(৭২), বাবলু(৩০), আলম (১৫), মুর্শিদ মিয়া(৫৫) খুর্শিদ মিয়া(৪৫)। এছাড়াও দফায় দফায় সংঘর্ষে মজনু মিয়া বাড়ির লোকজনের অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাংচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এবিষয়ে ভৈরব থানার ওসি তদন্ত বাহালুল খান বাহারের সাথে কথা হলে তিনি ওয়াননিউজকে জানান, আগানগর গ্রামের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা জেনে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়েছি। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।