বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

যেকোন সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন মিন্নিও!

ওয়ান নিউজ 24 বিডি ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ৮ জুলাই, ২০১৯
  • ১৪৯১ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক ::

একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায়। নতুন একটি সিসিটিভি ফুটেজে ‘স্বাভাবিকভাবে’ হাঁটার কারণে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন বরগুনায় নিহত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। মামলার এক নম্বর সাক্ষী মিন্নি। যে কোনো সময় পুলিশি হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৬ জুলাই) বেরিয়েছে আরেকটি ভিডিও। ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সন্দেহের তীর তাক করেছে রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির দিকে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীসহ ১০-১২ জন রিফাত শরীফকে মারধর করতে করতে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বের হচ্ছেন। এদের মধ্যে একজন পেছন থেকে রিফাতকে ধরে রেখেছেন। বাকি দুজন দুইহাত ধরে রেখেছেন। মিন্নির বাম হাতে একটি পার্স ছিল। তিনি পার্স হাতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন। একবার ডান দিকে তাকিয়েছেন। ভিডিওর ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে যখন নয়ন বন্ডের সঙ্গীরা রিফাতের মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করেন; মিন্নি তখনও স্বাভাবিক ছিলেন। ৫ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে যখন সব বন্ধুরা একসঙ্গে রিফাতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, মিন্নি তখন প্রথমবারের মতো দৌড়ে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে রিফাতকে দা দিয়ে কোপানো শুরু হয়, এ সময় দেখা যায় মিন্নি পেছন থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।

মর্মান্তিকভাবে কোপানোর পর নয়ন বন্ড ও তার সঙ্গীরা পালানোর সময় কোনো একজন মিন্নিকে তার পার্সটি মাটি থেকে তুলে হাতে দেন। মিন্নি পার্সটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। এ ঘটনার ৮ মিনিট পর পুলিশের দুইজন কর্মকর্তা একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসেন।

এ ভিডিও রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নিকে একেবারে নির্দোষ বলছে না, বরং তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়কে ইঙ্গিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রশাসন এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চায়। প্রকাশ হওয়া নতুন ভিডিও ও বেশ কিছু তথ্যে ঘটনার সঙ্গে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হতে পারেন।

মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, তদন্ত সাবলীল ও স্বচ্ছ করতে প্রয়োজনীয় সবই করা হবে। তিনি এ মামলার সাক্ষীদের একজন। তাই তদন্তের স্বার্থে যতবার প্রয়োজন ততবারই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. সোহেল রানা বলেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, হত্যার ঘটনার পরদিন থেকেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও পুলিশের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ‘কো-অপারেট’ করছেন না রিফাতের স্ত্রী মিন্নি। বাড়িতে গেলে তিনি ‘স্বামীর শোকে কাতর’ বলে পুলিশের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলেননি। তবে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে মিন্নি পুলিশি নিরাপত্তায় বরগুনায় বাবার বাড়িতে রয়েছেন। পুলিশ জানায়, মিন্নি এ মামলার প্রধান সাক্ষী। তার নিরাপত্তার জন্য তার বাড়ির বাইরে পুলিশ রাখা হয়েছে।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় রিফাত শরীফকে। মিন্নি হামলাকারীদের প্রাণপণ বাধা দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে মারা যান রিফাত।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com