জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে সকাল ১০টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে জয় বাংলার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে।
পরবর্তীতে বিজ্ঞান ভবন ও কলা ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসময় বিপাকে পরে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কোটায় ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীরা। সকালে প্রশাসনিক ভবনে কর্মকর্তারা প্রবেশের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
আন্দোলনের ৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ আলোচনার জন্য না আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ মিছিল উপাচার্য বাংলোর সামনে এসে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানকে। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করতে আসে প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ছাত্র উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী প্রমুখ। একপর্যায়ে প্রক্টরিয়াল বডি উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ পর উপাচার্যসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে।
এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানাতে আসে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বিকাল ৫টার মধ্যে লিখিত আকারে প্রশাসনকে কি কি করবে তা নোটিশ করে দিতে হবে অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেয়া হয় সেখান থেকে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৫ দিনের মধ্যে দুই হল চালু করতে হবে, ৫টি বাস প্রদান করতে হবে, মসজিদ এবং মন্দির এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করতে হবে।
এসবের প্রেক্ষিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে উপাচার্যকে।
উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, আমি চাইলেই সব হয় না। অনেক বাধা আসে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো। আগামী মার্চের ৩০ তারিখের মধ্যে হলে উঠার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে ১টি নিজস্ব বাস চালু হবে। অচিরেই মসজিদ মন্দিরের কাজ শুরু করবে প্রশাসন। বিকাল ৫টায় লিখিত আকারে তা আপনাদের জানানো হবে। আমার পাশে থেকে সহযোগিতা করুন।
অন্যদিকে মানব সম্পদ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আমিন এর অনিয়ম এর প্রেক্ষিতে করা তদন্ত কমিটি বাতিল চেয়ে বেলা ১টা থেকে বিক্ষোভ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।