ভৈরবে ‘সেরাজেম’ নামে একটি থেরাপি সেন্টার মালিকের বিরুদ্ধে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অন্তত অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যায়াম যন্ত্র পাইয়ে দেবার কথা বলে এক বছর আগে সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মালিক পক্ষ এই টাকা গ্রহণ করেন। টাকা ফেরত পেতে সেবা প্রত্যাশীরা গতকাল রোববার সকালে সেন্টারটি ঘেরাও করে।
খবর পেয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর দ্বিন ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রী খীসা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। শহরের বঙ্গবন্ধু সরণীর পাশে অবস্থিত মোল্লা টাওয়ারের তৃতীয় তলায় এঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যায়াম যন্ত্র দিবে বলে অর্ধশত লোকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নেন সারজেম থেরাপী সেন্টার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চারমাসেও যন্ত্র দিতে পারেনি। বর্তমানে মালিক পক্ষ এই নিয়ে টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
জানা যায়, দুই বছর আগে মো. কাউসার হালদার নামে এক ব্যক্তি সেন্টারটি চালু করেন। কাউসার হালদারের বাড়ি বরিশাল। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সিও পদে রয়েছেন। দেহের মেরুদ- ও রক্ত সঞ্চালন নিয়ে সমস্যায় থাকা, ¯œায়ুতান্ত্রিক ও মাংসপেশীর শৈথল্যতা দূর করতে চাওয়া এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত চর্বি ও বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করতে চান- এমন লোকজন সেবা পেতে এই সেন্টারে এসে থাকেন। শুরুর দিকে লোকজনকে বিনা পয়সায় সেবা দেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস পর থেকে টাকা নিতে শুরু করেন। ছয় মাস পর রোগীদের জানান, সেন্টারে এসে তাঁরা যে যন্ত্রের সাহায্যে সেবা নিচ্ছেন, চাইলে ওই যন্ত্রটি কিনে বাসায় সেবাটি পেতে পারেন। তখন আর সেন্টারে আসা লাগবে না। মালিক পক্ষের এমন প্রস্তাবে ব্যাপক সাড়া পড়ে লোকজনের মধ্যে।
ফাতেমা বেগম পৌর শহরের কালিপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি এই সেন্টারের একজন সেবাগ্রহণকারী। মাস্টার বেড নামে একটি যন্ত্র কিনতে এক বছর আগে ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা দেন। এই সময়ের মধ্যে দশটি তারিখ দিয়েও যন্ত্র দিতে পারেনি। ফাতেমা বলেন, যন্ত্র পেতে যখন তারিখ দিচ্ছে, তখনই আসছি। কিন্তু এলে কি হবে, যন্ত্রতো আর দিচ্ছে না।
পৌর শহরের চন্ডিবের রেলওয়ে কলোনীর বাসিন্দা মাহাবুব আলম ম্যানুয়েল ওয়ান ওয়ান জিরো জিরো নামের একটি ব্যায়াম যন্ত্র পেতে এক লাখ টাকা দিয়েছেন।
মাহাবুব বলেন, পনের দিনের মধ্যে যন্ত্র দিবে বলে টাকা নিয়েছে। কিন্তু এখন আট মাসের অধিক সময় হয়ে গেছে, যন্ত্র আর পেলাম না।
এ.কে.এম নুরুল আলম নামে কালিপুর এলাকার আরেক ব্যক্তি একই যন্ত্র পেতে এক লাখ টাকা দিয়ে পাননি। নুরুল আমিন বলেন, আগে কথাবার্তায় আস্থা রাখা যেত, এখনতো আর কথাবার্তায় আস্থা রাখা যাচ্ছে না।
বেলা এগারটার দিকে সেরাজেম সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় বিক্ষুব্ধরা সেন্টার ঘিরে রেখেছে। ভেতরে অবস্থান করছেন পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ঘটনার দিন মালিক ছিলেন না।
প্রতিষ্ঠানটি ইনচার্জ মো. শারফিন জানালেন, এরই মধ্যে অনেকের যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পণ্য আসে কুরিয়া থেকে। বর্তমানে করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে পণ্য আসা বন্ধ রয়েছে। এই কারণেই সমস্যা।
এক বছর আগে টাকা নিয়েও দিতে না পারার কারণ জিজ্ঞাস করলে তিনি বিব্রত হন।
মুঠোফোনে প্রতিষ্ঠানের সিও কাউসার হালদার সাংবাদিকদের জানান, আমদানি সমস্যার কারণে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবার আশ্বাস দেন তিনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রী খীসা বলেন, মালিকের কাছে গ্রাহকের প্রায় অর্ধকোটি টাকা রয়েছে। কিš ‘যন্ত্র দিতে পারেনি। হাসপাতালের সকল কিছু প্রশাসনের নজরদারীর মধ্যে নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।