বিশ্ব ব্যাপি মহামারি রুপ ধারনকারি প্রাণঘাতক করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা হোম কোয়ারেন্টাইন এর নিয়ম অম্যান্য করায় ভৈরবে মোঃ আকরাম হোসেন নামের ইতালি ফেরত এক ব্যক্তিকে নগদ ১০হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছে ভৈরব উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির অদূরে রেললাইনে বসে শরীরে বাতাস লাগাচ্ছিলেন ইতালি ফেরত ভৈরবের শম্ভুপুর গ্রামের মোঃ আকরাম হোসেন। এসময় আচমকা হাজির হয় উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হীমাদ্রী খীসা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মোঃ আকরাম হোসেনকে নগদ ১০হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদানসহ তাকে তাৎক্ষণিক আই সোলেশন সেন্টারে প্রেরণ করেন। এছাড়াও এসময় ভৈরবের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো সাত প্রবাসীকে আটক করে আই সোলেশন সেন্টারে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযানে আটক হয়ে আই সোলেশন সেন্টারে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কুয়েত ফেরত ভৈরবের শম্ভুপুর গ্রামের মোঃ আরিফ মিয়া, ইতালি ফেরত এরশাদ মিয়া, মিরারচর গ্রামের ইতালি ফেরত বাদল মিয়া, ইতালি ফেরত ফুল মিয়া, পৌর শহরের জগন্নাথপুর এলাকার ইতালি ফেরত মোঃ মুছা আহমেদ, চন্ডিবের এলাকার ইতালি ফেরত সাইফুল ইসলাম ও ভৈরবপুর এলাকার মালয়শিয়া ফেরত মোঃ রাকিব। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত অভিযানের নেতৃত্বে দেন ভৈরব উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট হীমাদ্রী খীসা। অভিযানে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভৈরব থানার ওসি (তদন্দ) মোঃ বাহালুল খান বাহার, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল আহমেদ ও পৌর স্যানিটেরি অফিসার নাছিমা বেগম সহায়তা করেন।
এখন পর্যন্ত ভৈরবে হোম কোয়ারেন্টানে থাকা প্রবাসীর সংখ্যা ১২৭জন। এর মধ্যে নিয়ম না মানায় ১৪জন রয়েছেন স্থানীয় নির্মাণাধীন ট্রমা হাসপাতালের আই সোলেশন সেন্টারে। এছাড়াও ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ৩০জন প্রবাসী।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হীমাদ্রী খীসা জানান, প্রাণঘাতক করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশ ফেরত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময় নিজ বাড়ির নির্দিষ্ট কক্ষে (হোম কোয়ারেন্টাইন) অবস্থান করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভৈরবে বিদেশ ফেরত অনেকেই এ নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে যা দেশ ও জাতির জন্য হুমকি সরুপ। তাই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সাথে নিয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় ইতালি থেকে দেশে আসা এক ব্যক্তিকে বাড়ির বাইরে রেললাইনে বসে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। পরে আইন অনুযায়ী ১০হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম অম্যান্যকারি আরো সাত প্রবাসীকে আটক করে আই সোলেশন সেন্টারে প্রেরণ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।