বিশ্বব্যাপি মহামারি রুপধারনকারি করোনা ভাইরাসে ভৈরবে এখনো পর্যন্ত কোনো আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়নি। গত দুই সপ্তাহে বিদেশ ফেরত ১৬৩জন প্রবাসীকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এর মধ্যে ১৪৮জন হোম কোয়ারেন্টাইনে ও ১৫জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মাঝে করোনা ভাইরাসের কোনো উপসর্গ পাওয়ায় কোয়ারেন্টাইন পর্ব সম্পন্ন করা ৭৭জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদেরকে স্বাভাবিক চলাফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ৮৬জন বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের মধ্যে ১৪জন রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে এবং আরো ৭২জন রয়েছেন হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায়। সর্বশেষ গত ২৪ঘন্টায় ভৈরবে বিদেশ ফেরত চারজনকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে যাদের তিনজন হোম কোয়ারেন্টাইনে ও নিয়ম অমান্য করায় একজন রয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে। আজ রবিবার সকালে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, করোনা ভাইরাস একটি সংক্রামক রোগ। বাতাস, হাচি-কাশি ও গণসমাগমসহ বিভিন্ন ভাবে এ ভাইরাসটি মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। তাই নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবার-পরিজনদের সুরক্ষায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন ডাঃ বুলবুল আহমেদ।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক ভৈরব উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে আতংকিত না হয়ে সচেতনাবৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সারা বিশ্বব্যাপি ভাইরাসটির বিস্তার হওয়ায় বিদেশ ফেরত সবাইকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোয়ারেন্টাইন পর্ব সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়াও পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের রাজনৈতিক মিটিং-মিছিল, সভা-সেমিনার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের গণজমায়েত থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, মাদ্ররাসা-এতিমখানা ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
নির্দেশনা অমান্য করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ইউএনও লুবনা ফারজানা। পাশাপাশি বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।