শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ লাগানো লাশ উদ্ধার কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও চড়া ডিম-মুরগির দাম বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু নরসিংদীতে বিষপানে মা ও মেয়ের মৃত্যু, আটক বাবা লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার চলতি মাসে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হোসেনপুরে আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন কিশোরগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুলের ২৮৪ শতক জমি জব্দ, ৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

২% না দিলে হয় না কোনো রেজিস্ট্রি, কোটি টাকার বাণিজ্য কুলিয়ারচর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে

আলী হায়দার, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে
২% না দিলে হয় না কোনো রেজিস্ট্রি, কোটি টাকার বাণিজ্য কুলিয়ারচর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রন্দ্রে রন্দ্রে দুর্নীতি। এখানে ঘুষ ছাড়া কোনো একটি কাজ যেনো স্বপ্নের সমান। দলিল রেজিস্ট্রি করতে সরকারি রাজস্বের বাইরে দলিল প্রতি ১৫ শ থেকে ৩৫শ টাকা, সর্বনিম্ন ২% হারে কমিশন না দিলে কোনো দলিল রেজিস্টাি হয় না এ অফিসে। এছাড়া হায়ার ভ্যালু, হেবা ঘোষণাতেও নেয়া হচ্ছে বাড়তি মোটা অঙ্কের টাকা।

অভিযোগ আছে, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে উচ্চমানের জমিকে নিম্নমানের উল্লেখ করে দলিল সম্পাদন করার। উদ্দেশ্য সরকারের বিশাল অংকের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া। জমির শ্রেণি পরিবর্তনে সরকারের বিশাল রাজস্ব ফাঁকি দিলেও সাব-রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্টরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এ ছাড়াও রয়েছে কথিত সেরেস্তার নামে টাকা আদায় এবং পদে পদে হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের মেরাথন অভিযোগ। এসব ঘুষের টাকা প্রতিটি দলিল লেখককে সরকারি ফিসের সাথে হিসাব করে আলাদা বুঝিয়ে দিতে হয় সাব রেজিস্ট্রার অফিসের নকল নবিশ কর্মচারী রুস্তমকে। এর পর আরও কয়েক হাত ঘুরে সে টাকা যায় রেজিস্ট্রারের হাতে।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক বলেন, আমরা এখানে অসহায়, আমদের কিছুই করার নাই। আমরা যদি দলিল প্রতি নির্ধারিত অতিরিক্ত টাকা হিসাব করে বুঝিয়ে না দেই। তবেতো দলিলই গ্রহণ করবে না, সাইনতো দূরের কথা।

ভুক্তভোগীরা জানান, সাফ কবলা দলিল, হেবা ও দানপত্রসহ যে কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করতে সর্বনিম্ন ২% হিসেবে দলিলদাতা ও গ্রহীতাকে বাড়তি টাকা খরচ গুনতে হয়। দলিল কমিশন রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রার আদায় করেন লাখ লাখ টাকা। কুলিয়ারচর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সনদপ্রাপ্ত ২৫ জন দলিল লেখক ছাড়াও অনিবন্ধিত আরও ১০/১৫ জন দলিল লেখক রয়েছে। যারা দলিল লেখকদের নামে দলিল সম্পাদন করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিবন্ধিত দলিল লেখক, তার সহকারী ও সহযোগীদের দিয়ে দলিল নিবন্ধন মূল্যের ৪ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ঘুষ হিসেবে দলিলদাতা ও গ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন। ঘুষের আদায়কৃত অর্থ সাব-রেজিস্ট্রার, তার কর্মচারী ও দালালদের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত হারে ভাগ করা হয়। অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো একটি দলিল নিবন্ধন হয়েছে এমন উদাহরণ নেই বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর। ভূমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রমে সরকার নির্ধারিত হারে আয়কর ও রেজিস্ট্রেশন ফি পেয়ে থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতিটি দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে দলিলদাতা ও গ্রহীতাকে ঘুষ বাবদ বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জমি বিক্রেতা জানান, জমি বিক্রি করে দলিল রেজিস্ট্রি করতে তাদের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে আয়কর ও ভ্যাটের পাশাপাশি আরও ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। ঘুষের এ টাকা ছাড়া জমির দলির সম্পাদিত হয় না। টাকা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি করতে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের লোকজন হয়রানি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক জানান, তিনি গত এক বছরে কমপক্ষে ৫০টি দলিল করিয়েছেন। এ-সব দলিল প্রতি সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অফিস খরচ বাবাদ অতিরিক্ত টাকা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি অনেকবার তাদের কাছে জানতে চেয়েছি, ঝগড়াও করেছি অফিস খরচ দেওয়া নিয়ে। কিন্তু কোনো উপায় না পেয়ে টাকা দিতেই হয়েছে। কারণ, অফিস খরচ নামের ঘুষের এই টাকা ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি হবে না।

জানতে চাইলে সাব রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলাম প্রথমে অফিস খরচ নামে দলিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, এখানে সরকারি ফি এর বাহিরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না।

আমাদের কাছে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অসংখ্য প্রমাণ আছে দাবি করে ফের জানতে চাইলে, এক পর্যায়ে সাব রেজিস্ট্রার বলেন, দলিল প্রতি অতিরিক্ত ৫ থেকে ৬শ টাকা বিভিন্ন খরচ বাবদ সরকারি ফি এর বাহিরে নেওয়ার বিধান আছে। আমরা সেই টাকাই নিয়ে থাকি, এর বাহিরে আমার কোনো টাকা নেই না।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com