মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় মাঘে চলমান বৃষ্টি ও কনকনে শীতে কৃষিকাজে পিছিয়ে পড়া শব্দকর ও চা-বাগানের নারী শ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অল্প মজুরিতে অধিক শ্রম পাওয়ার কারণে নারী শ্রমিকের চাহিদা দিন দিন বেড়েছে এ উপজেলায়। জমি তৈরী, ধানের চারা উত্তোলন, সহ কৃষি কাজে তাদের চাহিদা অপরিসীম। তবে চাহিদা বাড়লেও নারী শ্রমিকেরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন যুগযুগ ধরে। এখানকার শব্দকর ও চা-বাগানের নারী শ্রমিকেরা সমানভাবে পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষি কাজে জমিতে বীজ রোপণ, ধান কাটা-মাড়াইসহ ফসল উৎপাদনের কাজে ভূমিকা রাখলেও নাম মাত্র মজুরি পান তারা।
বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত নারী শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাগানে কাজ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সকালে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন তারা। বিভিন্ন ভবন নির্মাণে ইট ভাঙ্গা, মসলা বহন থেকে শুরু করে কঠিন কাজ করছেন। বিশেষ করে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে কৃষি কাজের যাবতীয় কাজ করেন তারা। সারাদিন কাজ করার পর ২০০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পান। বাজারে চাল, ডালসহ শাকসবজির অনেক দাম থাকায় এই টাকা দিয়ে তাদের পরিবার চলে না। আমরা কখনও ন্যায্য মজুরি পাইনা, পেটের দায়ে স্বল্প মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হই।
কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের কাটলতলী গ্রামে শীতের সকালে বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন চা বাগানের নারী গীতা, পার্বতী ও শীলা। তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, সকাল সাতটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করে তিনশত টাকা মজুরি পাবো। বোরোধানের চারা রোপণে পুরুষের দৈনিক মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। একই কাজে পুরুষ ও নারীদের মাঝে অনেক বৈষম্যে। বেঁচে থাকার জন্য তীব্র শীতে কাজ করছি আমরা। আমরা একই মজুরিতে আমন ধান কেটে দিয়েছি। মজুরি বাড়ানোর ব্যাপারে কথা বললে তারা আমাদেরকে কাজে নেয়না। চা-বাগানের অনেক নারীরা বিভিন্ন এলাকায় এসে দিনমজুরি কাজ করেন।
রহিমপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মুহিত জানান, স্বল্প খরচে নারী শ্রমিক দিয়ে বোরো ধানের চারা রোপণ করছি। কৃষি কাজে অতিরিক্ত খরচ বাড়ায় বাগান থেকে নারী শ্রমিক এনেছি ৩০০ টাকা মজুরিতে। নারীরা কাজে সময় নষ্ট করেনা কাজও বেশি করে, এছাড়াও তাদের মজুরিও কম। ১ একর জমি নারী দিয়ে রোপণ করালে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ কম লাগে পুরুষ শ্রমিক থেকে। এ জন্য নারী শ্রমিক দিয়ে ধানের চারা রোপণ ও ধান কাটার কাজ করাই।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, চলতি বছরে উপজেলায় বোরো চাষে ৪ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপজেলায় পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিকেরাও সমানতালে কাজ করেন। বোরো ধান চাষ করার জন্য আমরা সবসময় কৃষকদেরকে সহযোগিতা করছি। বোরো চাষের জন্য সরকারি ভাবে উপজেলার প্রায় ৩৮০০শ’ কৃষকদেরকে হাইব্রিড, উফশি ও সার দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।