কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল, স্মৃতিচারণ ও পুষ্পমাল্য অর্পণসহ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে ভৈরবে পালন করা হয়েছে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মোঃ জিল্লুর রহমানের ৯ম মৃত্যু বার্ষিকী। মহান এ নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার সকালে স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ কোরআন খতম ও জিল্লুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। পরে বেলা ১১টায় ভৈরব সরকারি কেবি পাইলট মডেল হাই স্কুল মাঠে ভৈরব উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এর আয়োজনে আলোচনাসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মোঃ জিল্লুর রহমান ও সদ্য প্রয়াত ছাত্রলীগ নেতা মো: খলিলুর রহমান লিমনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে মহান সৃষ্টি কর্তার দরবারে দোয়া প্রার্থনা করা হয়। বেলা ১২টায় আলোচনাসভা শেষে একই স্থানে কাঙালিভোজের আয়োজন করা হয়।
আলোচনাসভায় ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগ সাভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: সায়দুল্লাহ মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা মোঃ সোলায়মান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্ট, সহ-সভাপতি ও অধ্যাপক শামসুজ্জামান বাচ্চু, সাবেক রাষ্ট্রপতির এপি এস মোল্লা শাখাওয়াত হোসেন, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি আলহাজ্ব মো: হুমায়ুন কবির,উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি জাকির হোসেন কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক শেফাত উল্লাহ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস.এম বাকি বিল্লাহ, আতিক আহমেদ সৌরভ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল হেকিম রায়হান, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অলিউল ইসলাম অলি, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারাণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রিয়াদ প্রমূখ ।
এ ছাড়াও অঙ্গ- সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আলোচনা সভায় বক্তারা ভৈরবের সম্মান রক্ষা করে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের শেষ ইচ্ছা ও ভৈরববাসীর প্রাণের দাবি ভৈরবকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান সরকারের প্রতি।
উল্ল্যেখ্য, জিল্লুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর গ্রামে ১৯২৯ সালের মার্চ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মেহের আলী আইনজীবি ছিলেন। বাবার চাকুরী সুবাদে তিনি ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয়ী বিদ্যা নিকেতন থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরে ভৈরব কেবি পাইলট স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি একাধারে ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ১৯৯৬ সালের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, সংসদ উপনেতাসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীনতার পর ভৈরব কুলিয়ারচর থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে ১২ ফেব্রুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ করেন। ২০১৩সালের ২০মার্চ বাধ্যক্য জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন ভৈরবের এই সূর্য সন্তান।
তিনি রাজনৈতিক জীবনে জন্মস্থান ভৈরবে অসংখ্য স্মৃতি রেখে গেছেন। বীরত্বে গাথা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব জিল্লুর রহমানের জীবনী অমলিন হয়ে থাকবে ভৈরববাসীসহ সমগ্র জাতির হৃদয়ে।