শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনের সংস্কার প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে
কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনের সংস্কার প্রয়োজন

প্রচলিত শিশু আইনে কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জটিল। বর্তমান আইন অনুযায়ী কিশোর অপরাধীদের সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হলেও তারা কতখানি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। কিশোর অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হলে আইনের সংস্কার প্রয়োজন বলে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।

শনিবার বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির কারণ নিয়ে আয়োজিত এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণেই কিশোর অপরাধ বাড়ছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোন কোন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিশোর অপরাধীরা আশকারা পেয়ে থাকে। রাজনৈতিক সদিচ্ছাই কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কোন রাজনৈতিক চাপ নেই। জুনিয়র সিনিয়র বিরোধ, হিরোইজম, প্রযুক্তির অপব্যবহার, পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা, ত্রুটিপূর্ণ সামাজিকীকরণসহ আকাশ সংস্কৃতি কিশোর অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে তুলছে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে ৮০টি কিশোর গ্যাং রয়েছে, যাদের সদস্য সংখ্যা ৩৩৯ জন। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজধানীতে কিশোর অপরাধ সংশ্লিষ্ট ৪৬টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে একটি মামলার বিচার চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভাবে কাজ করছে। এক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে হলে অভিভাবকসহ সমাজের সকল অংশীজনকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহার সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে। বিতর্কিত অ্যাপস টিকটকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারকা বানিয়ে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে নিম্ন আয়ের পরিবারের মেয়েদের অনৈতিক কর্মকান্ডের ফাঁদে ফেলছে এসব অপরাধীরা। এমনকি সুকৌশলে এসব কিশোরী মেয়েদের ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে। বিশেষ করে টিকটক, লাইকি, ইমু, ফেসবুক, স্ট্রিমকার, মাইস্পেস, হাইফাইভ, বাদুইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কিশোর-তরুণদের বিপথগামী করে তুলছে। তৈরি হচ্ছে টিকটক হৃদয়, অপু, সজীব, নয়নবন্ড, সুজন ফাইটারের মতো অপরাধীরা।

তিনি আরও বলেন, কিশোর তরুণদের জন্য বর্তমানে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে ওয়েব সিরিজ। কিছু কিছু অনলাইন প্লাটফর্মে তুমুল অশ্লীলতা, নোংড়া সংলাপ, উদ্ভট গল্প দিয়ে ওয়েব সিরিজ প্রদর্শিত হচ্ছে। নির্লজ্জতায় ভরা এসব ওয়েব সিরিজগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে সহজেই কিশোর-কিশোরীরা আসক্ত করে ফেলছে। হিন্দির পাশাপাশি বাংলা ও নোংড়া এসব ওয়েব সিরিজগুলো নেট দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় তুলেছে। যৌনতা, ঘনঘন বেডসিন, খোলামেলা পোশাক, স্নানের দৃশ্য সম্বলিত এসব ওয়েব সিরিজগুলো নীল ছবির চাইতেও কম নয়। এরমধ্যে বাংলাদেশী নির্মাতাদের তৈরি ইউটিউবে মুক্তি পাওয়া কয়েকটি ওয়েব সিরিজ ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

ছায়া সংসদে সামসুল হক খান স্কুলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় নওগাঁর মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক মোরছালীন বাবলা, সাংবাদিক অনিমেষ কর, সাংবাদিক দিপু সিকদার প্রমূখ। প্রতিযোগিতা শেষেবিজয়ী দলকে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com