বঙ্গবাজারের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনরায় ব্যবসা করার সুযোগ দিতে অগ্নিকাণ্ডস্থলে অস্থায়ী মার্কেট বসেছে। আগুন লাগার আট দিন পর বুধবার ব্যবসায়ীরা চৌকিতে মালামাল সাজিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন।
এদিকে ইট এবং বালি বিছিয়ে নিচের অংশ ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তুলে হলেও উপরে নেই কোনো ছাউনি কিংবা শামিয়ানা। তাদের মধ্যে কেউ শামিয়ানা টাঙিয়ে, আবার কেউ মাটিতে ছাতা পুঁতে দোকান শুরু করেছেন। যার যেখানে দোকান ছিল, তাদের সেখানেই বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এর আগে সেখানে বালি ফেলে ও ইট বিছিয়ে বসার উপযোগী করে দেয় দক্ষিণ সিটি।
বুধবার বেলা সোয়া একটার দিকে চৌকি বসিয়ে অস্থায়ীভাবে বিক্রিবাট্টার উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
ঈদের পরে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ সময় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে দুই কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যেন রাতেও দোকান চালু রাখতে পারেন সেজন্য ছাউনি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে।
রাজধানীর দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তাপস জানান, ডিএসসিসির তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সংখ্যা তিন হাজার ৮৪৫ জন। তবে আজ প্রায় ৭০০ জন ব্যবসায়ী চৌকি বসিয়ে বঙ্গবাজারে বসেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গমার্কেটে আগে থেকে থাকা সিটি করপোরেশনের সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের দোকান বসানোর নির্দেশনা দিচ্ছেন বঙ্গবাজার মালিক সমিতির নেতারা। দোকানের সংখ্যা অনুযায়ী চৌকি দেয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। যাদের এক থেকে তিনটি পর্যন্ত দোকান ছিল তাদের দেয়া হচ্ছে একটি চৌকি। যেটার আয়তন সাড়ে তিন ফুট বাই পাঁচ ফুট। আর যাদের এর থেকেও বেশি দোকান ছিল, তাদের সেই অনুযায়ী চৌকি দেয়া হচ্ছে। এদিকে খোলা মার্কেটে তপ্ত রোদের নিচে অনেকেই ছাতা হাতে তাদের চৌকিতে মালামাল বিক্রি করলেও অনেক চৌকি খালি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আবার অনেকে চৌকি বানাতে পাশের ফুলবাড়িয়া মার্কেটে ভিড় জমিয়েছেন। তবে মার্কেটে গুটিকয়েকজন ছাড়া খুব বেশি ক্রেতা চোখে পড়েনি।