লাখ লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার ছিল ১৯৬তম ঈদের জামাত।
সকাল ৯টা বাজার আগেই মাঠের মূল অংশ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। মূল মাঠে জায়গা না পেয়ে মাঠের আশ-পাশের এলাকা’সহ সড়কগুলো মুসল্লিরা নামায আদায় করেন। সকাল ১০টায় ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ।
নামাজ শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে মুসল্লিদের সংকেত দিতে শর্টগানের ছয়টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এর মধ্যে জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে তিনটি, ৩ মিনিট আগে দুটি এবং শেষটি জামাত শুরুর ১ মিনিট আগে ছোড়া হয়।
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ময়দানে নামাজ আদায় করেন শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের ঈদগাহ মাঠে আসার সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুইটি স্পেশাল ট্রেন যাতায়াত করে।
এদিকে ঈদগাহ ময়দানে ছিল চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিজিবি, র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্যের নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। এছাড়াও সিসি ক্যামেরা, ড্রোন ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে ঈদগাহের ভেতর ও বাইরের এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’, এরপর ধীরে ধীরে সেই ‘সোয়া লাখিয়া’ পরিচিত হয়ে ওঠে শোলাকিয়া নামে।