যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ‘বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতির’ অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ‘পদোন্নতি ও পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য ৪ কোটি টাকার বেশি ঘুষ নেওয়ার’ অভিযোগ দুদকে জমা পড়েছে।
বুধবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছে বলেছেন, দুদকের হাতে আসা অভযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানের আওতায় আনা অন্য তিনজন হলেন-যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
যে নথির ভিত্তিতে দুদক অভিযোগটি অনুসন্ধান শুরু করেছে তাতে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকার সময় বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ‘চরম দুর্নীতি করেছেন’।
কয়েকজন কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে সেখানে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পর ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে ওই সরকারে উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শুরুতে তাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তার কাছ থেকে সরিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান আসিফ মাহমুদ। ওই মাসের শেষ দিকে তিনি এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।
এরপর থেকে তিনি দলটির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের জন্য ৭৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য দেড় কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তাদের পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও মোট ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
দুদকের নথিতে যেসব কর্মকর্তাকে নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগও এসেছে সেখানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মাসুম আহমেদের নাম রয়েছে।
এছাড়া যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমির, আনিচ, ইব্রাহিম, জুলহাস, নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ ও কোরবান আলীসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ‘সিন্ডিকেটের’ মাধ্যমে যুব উন্নয়নের বিভিন্ন দরপত্র, কেনাকাটা ও অন্যান্য কাজে ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ হয়েছে।
দুর্নীতির অর্থে ‘বিলাসবহুল জীবনযাপনের’ অভিযোগও নথিতে রয়েছে।
অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি দল গঠন করেছে কমিশন। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।
অন্য সদস্যরা হলেন-সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।
এর আগে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন ধরনের ‘দুর্নীতি, ঘুষ, অর্থ পাচার ও অবৈধ সুবিধা নেওয়ার’ অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে।
তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করেছে কমিশন।