রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে উঠে পড়া গাড়ির চাপায় নির্মাণ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় কিশোর চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার বিকালে ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোরকে গুলশান ১২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন গুলশান থানার ওসি জাহেদ নূর।
তিনি বলেন, ওই কিশোর তাদের হেফাজতে রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালের এ ঘটনায় এর আগে ওই কিশোরকে বাদ দিয়ে মামলা করা হয়। এতে আসামি দেখানো হয় গাড়িটির চালককে। ওই কিশোরের বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি বলেন, মামলার সঠিক তদন্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকালে বারিধারা ১ নম্বর সড়কে জার্মান দূতাবাসের কাছে অনিয়ন্ত্রিত একটি গাড়ি ফুটপাতে উঠে মেহেদী নামে এক নির্মাণ শ্রমিককে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই ২৪ বছর বয়সি ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে কালো রঙের একটি এসইউভি দ্রুত গতিতে এসে ফুটপাতে উঠে পড়ে। তখন সেখানে বসে ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী। গাড়িটি মেহেদীকে চাপা দিয়ে একটি সড়ক বাতির খুঁটিতে গিয়ে ধাক্কা দিলে সেটিও ভেঙে পড়ে।
পরে স্থানীয় লোজন উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত আনা হয়েছে বলে জানায়।
দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে বের হয়ে আসা এক কিশোরকে স্থানীয় লোকজন ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
অভিযোগ উঠেছে, পরে থানায় নিয়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। তবে পুলিশের বক্তব্য, মব থেকে রক্ষা করতে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর ভাই একটি মামলা করলেও সেখানে ওই কিশোরের নাম ছিল না বলে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন জানান।
মামলায় আকাশ মারক (৪৪) নামে একজনের নাম দেওয়া হয়েছে, যাকে দুর্ঘটনায় পড়া গাড়ির চালক হিসাবে পরিচয় দেওয়া হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা ইসমাইল বলেন, “মামলায় ওই গাড়ির চালকের নাম থাকলেও প্রাথমিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে দুর্ঘটনার পর চালকের আসন থেকে ওই কিশোর বেরিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই কিশোরই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।”
পরে তাকে গুলশানের ১২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ওই কিশোরের বাবা বিমান বাংলাদেশের একজন ক্যাপ্টেন।
“আমরা চালককেও খুঁজতেছি। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”