বিশ্বে তেলের জন্য যুদ্ধ চললেও সামনে সুপেয় পানির জন্যও যুদ্ধ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
রোববার বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পানি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুপেয় পানির তীব্র সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বে এখন তেলের জন্য যুদ্ধ চলছে। এমন সময় আসতে পারে, যখন পানির জন্যও যুদ্ধ করতে হবে।”
তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা গ্রামে গেলে মানুষের কাছ থেকে প্রায়ই গভীর নলকূপের জন্য আবেদন পান। একটি পরিবার যখন গভীর নলকূপের জন্য আবেদন করে, তখন মূলত তারা নিজেদের পরিবারের প্রয়োজনের কথাই চিন্তা করে।’’
তার মতে, আশপাশে যদি পর্যাপ্ত সুপেয় পানি থাকত, তাহলে তাদের এভাবে গভীর নলকূপের জন্য আবেদন করতে হতো না।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, একটি নির্বাচনি এলাকায় বছরে সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৪০০টি, অনেক চেষ্টা করে ৫০০টি পর্যন্ত গভীর নলকূপ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। অথচ একটি নির্বাচনি এলাকায় প্রায় চার লাখ মানুষ বসবাস করে। সেখানে ৪০০টি গভীর নলকূপ দিলে কতগুলো পরিবারই বা পর্যাপ্ত সুপেয় পানি পাবে?
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে উল্লেখ করে এটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “কিছু এলাকায় এমন পানিও রয়েছে, যাতে হাত ধোয়ার সুযোগ নেই, খাওয়ার কথা তো দূরের বিষয়। কিছু এলাকায় মাছের চাষও হচ্ছে।”
একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘সেসব প্রতিবেদনে কিছু মাছকে খাওয়ার অনুপযোগী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দেশ-বিদেশের ছয়টি বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে এবং সেখানে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। এসব মাছ খেলে একজন সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।’’
এ সময় তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও খাল খনন কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন।
সারাদেশে আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার জন্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সমাজের সবাইকে এতে যুক্ত হওয়ার তাগিদ দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘মার্ক অ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।