কিশোরগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার পলাতক এক আসামিকে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৪-এর একটি আভিযানিক দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ আগস্ট দুপুরে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানার ৬ নম্বর সেক্টরের রাজউক মডেল কলেজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামি নওশাদ (২০) কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিনি মামলার ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে মাহতাব (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন বছর আগে প্রতিবেশী ও মামলার ১ নম্বর আসামি মো. বাদল মিয়ার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ২ শতাংশ জমি বিক্রি করেন মাহতাব। জমি দলিলের সময় বাদল মিয়া ৭০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করলেও বাকি ৮০ হাজার টাকা দিতে তিনি দীর্ঘ তিন বছর ধরে টালবাহানা করছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৬ জুলাই বাদল মিয়ার স্ত্রী মাহতাবকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে বাদল মিয়া ফোন করে মাহতাবকে টাকা নিয়ে যেতে বলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সরল বিশ্বাসে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে মাহতাব কিশোরগঞ্জ মডেল থানার কড়িয়াইল এলাকার মতি মিয়ার ধানিজমির কাছে যান।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা নওশাদসহ অন্যান্য আসামি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাহতাবের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত মাহতাবকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. সুমন (২৭) বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৫, তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পর থেকে নওশাদসহ অন্যান্য আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ আগস্ট ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে সিপিসি-২, এসআরবি-১৪, কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল এসআরবি-১, সিপিসি-১, উত্তরা, ঢাকার সহায়তায় ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানার ৬ নম্বর সেক্টরের রাজউক মডেল কলেজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হত্যা মামলার ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি নওশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।