দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি মো. জহিরুল ইসলাম মবিন। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন জহিরুল ইসলাম মবিন। চিকিৎসায় প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) অথবা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে তাঁর রওনা হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় হামলা, মামলা, কারাবরণ ও আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে জহিরুল ইসলাম মবিনকে। এসব কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার বিভিন্ন সময় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও পড়েছেন বলে তাঁদের দাবি। তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন।
বিএনপির স্থানীয় ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মাধ্যমে জহিরুল ইসলাম মবিন সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলা হয় এবং রাজনৈতিক কারণে তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের রাজনৈতিক সহিংসতার সময় এবং পরবর্তী সময়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে জহিরুল ইসলাম মবিনকে নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে পারেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান, এসব সময় তাঁকে আত্মগোপনেও থাকতে হয়েছে।
জহিরুল ইসলাম মবিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় হামলা, মামলা, কারাবরণ ও আত্মগোপনের মতো নানা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন, সভা-সমাবেশ ও মিছিল-মিটিংয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এদিকে, জহিরুল ইসলাম মবিনের শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে তাঁর চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ায় দুটি কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে পরিবারের দাবি। ২০২২ সালে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপরও তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
জহিরুল ইসলাম মবিনের পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা।