ভৈরব প্রতিনিধি:
সারা বছর বুকে ধারণ করা স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে সোনালি ধান রোপন করেন বাংলার মেহনতি কৃষকরা। ঘাম ঝড়ানো শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত এসব ধানের ন্যায্য মূল্য পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কিছুটা স্বাচ্ছন্দে থাকবেন এমনটাই কৃষকের স্বপ্ন। কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কৃষকরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এবছর ভৈরবের কৃষকদের এই স্বচ্ছলতার স্বপ্নের বিপরীতে যেন এক বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধানের বাজার মূল্য! চলতি বছরে হাওড়সহ ভৈরবের সর্বত্র ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজার দর নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এখানকার কৃষকরা। তারা বলছেন, ফলন ভালো হলেও বাজারে দর কম থাকায় লোকসানের মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভৈরব উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে রয়েছে বিশাল পাচঁটি হাওড়। এরমধ্যে সাদেকপুরে জোয়ানশাহী হাওর, আগানগরে ডিগচর হাওর, শ্রীনগরে গোনারবন হাওর, শিমুলকান্দির শিতলপাটি হাওর ও কালিকাপ্রসাদে জইলর বন হাওর উল্লেখ্যযোগ্য। চলতি বছরে ভৈরবে ৬হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে ইরি- বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
ভৈরবের এই হাওড়গুলোতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭ হাজার হেক্টরের চেয়ে বেশি ধান আবাদ হয়েছে । আবাদকৃত জমির মধ্যে বিআর-২৮ ও বিআর ২৯ ধানের চাষাবাদ বেশি। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বোরো ধানের ফলনও হয়েছে বাম্পার। ইতিমধ্যে হাওড় এলাকার ৭০ ভাগ ও সমতল এলাকার ৩০ ভাগ ফসলী জমির ধান কর্তন হয়েছে। তবে ধান উৎপাদনে কলচার্জ, শ্রমিক মজুরী, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে ।
কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দর কম। ফলে লোকসান দিয়েই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। সবমিলিয়ে মুখে হাসি নেই খেটে খাওয়া এসব মেহনতী মানুষ গুলোর। আর তাই কৃষিকাজে আস্থা হাড়িয়ে ভবিষ্যতে আর ধান রোপন করবেন না বলেও জানালেন অনেকে।
কৃষক রমিজ উদ্দিন জানান, “বর্তমানে সরকার ধানের যে বাজার মূল্য দিছে এই মূল্যে আমডার লাভ হয়তো না। দর না বাড়াইলে কৃষকরা আগামীতে আর ধান করতাম না”। আব্দুল খালেক নামের আরেক কৃষক বলেন, “এক বিঘা জমির ধান করতে খরচ অয় ১০হাজার টেহা। কিন্তু বাজারো নিয়া গিয়া এই এক বিঘা জমির ধানের দাম ৭হাজার টেহার বেশি পাই না। তিনি আরো বলেন এবছর ঋণ কইরা ধান করছি এরপরেও লোকসান! সামনের বার এই ধান আর করতাম না”।
এভাবে শুধু কৃষক আব্দুল খালেকই নয় এবছর লোকসানের মুখে পড়ে কৃষি কাজে আস্থা হারাচ্ছেন এ অঞ্চলের বহু কৃষক। তাই লোকসানের মুখ থেকে বাচঁতে সরকারের কাছে ধানের বাজার মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ভৈরবের কৃষকরা।
এদিকে সরকারি ভাবে নির্ধারিত বাজারমূল্য অনুসারে খাদ্য বিভাগ ধান সংগ্রহ শুরু করলে ধানের বাজার মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা লাভবান হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম শরীফ খান ওয়াননিউজকে জানান ভৈরব উপজেলায় এবছর উরি বুরো আবাদের লক্ষ মাত্রা ৬হাজার ৪শ একর নির্ধারণ করা হলেও আবহওয়া অনুকূলে থাকায় ৭হাজার একরের অধিক জমিতে আবদ হয়েছে এবং কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকার নির্ধারিত বাজার মূল্যে খাদ্য বিভাগ ধান সংগ্রহ শুরু করলে বাজারে ধানের মূল্য বাড়বে এবং কৃষকরাও লাভবান কবেন।
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচলে। এ অঞ্চলের কৃষকদের দাবী কৃষকরা যেন ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সেজন্য সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনবে ।