ফলোআপ: ভৈরব রেলওয়ে ষ্টেশনে ভৈরব-ময়মনসিংহ রেল পথের আউটার সিগন্যাল এলাকায় একই স্থানে বিগত ৫১দিনে ৩বার ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উদ্ধার কাজ শেষ হতে প্রতিবারই সময় লেগেছে কমপক্ষে ৫/৬ ঘন্টা। ফলে ওই সময় এ রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে করে এ রুটে ট্রেনে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম দূর্ভোগে পড়েন। ট্রেন লাইনচ্যুতির এসব ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। প্রসঙ্গত বার বার একই স্থানে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় ভৈরব বাজার জংশনের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিগন্যাল) মোঃ সোলায়মান হোসেন কে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ভৈরব-নরসিংদী সেকশনের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মোঃ সাইফুল ইসলাম ও ভৈরব বাজার জংশনের স্টেশন মাষ্টার কামরুজ্জামান। তদন্ত কমিটি গঠনের পর সাত কার্য দিবসের মধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার বলে সূত্রে জানা যায়।
তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নির্ভর সূত্র জানায়, গত পহেলা অক্টোবরে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ২৪২ডাউন লোকাল ট্রেনটি ভৈরব রেলস্টেশনের আউটারে পৌছানো মাত্র ট্রেনটির একটি বগির ৩টি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে ভৈরব-ময়মনসিংহ ৫ ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এঞটনার কারণ হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরাজীর্ণ রেললাইন ও অতিরিক্ত গতির কারণেই ট্রেনটি লাইনচ্যুতির স্বীকার হয়েছে। এছাড়াও অতিরিক্ত গতির কারণে লাইনের কার্বের সুপার এলিভেশন ঠিক না থাকার কারণে গত ১২অক্টোবর শনিবার রাত আটটার দিকে একই ট্রেনটি একই স্থানে আবারো লাইনচ্যুতি হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। সবশেষ গত ২১নভেম্বর বৃহস্পতিবার জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্রগ্রামগামী নাসিরাবাদ মেইল ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে ষ্টেশনে ঢোকার সময় আউটার সিগন্যালের কাছে বিকট শব্দে দুপুর সারে ১২টার দিকে ট্রেনের ইঞ্জিনের পিছনের ১টি বগির ৪টি চাকা লাইনচ্যুত হয়। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, গাড়ির ইঞ্জিন থেকে ৪র্থ নং কোচের আন্ডার গিয়ার পার্টস এর সাথে লাইনের ধাক্কা লাগার ফলেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
এদিকে যাত্রীরা বলছেন, এ রুটে মান্দাতামলের রেল লাইনগুলো অকেজো হয়ে ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া রেললাইনের উপর প্রয়োজনীয় পাথর নেই। অনেক জায়গায় স্লিপার,নাট,বল্টু ও লোহাগুলো জরাজীর্ণ হওয়ার কারনে হয়তো একাধিকবার এ দূর্ঘটনা ঘটছে । তাই ট্রেন দূর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে পুরোনো রেললাইনের সংস্কার করাসহ পর্যাপ্ত পাথর সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোড়ালো আহবান জানিয়েছেন ট্রেনে যাতায়াতকারি সর্বস্তরের মানুষজন।