কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বসত বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে ঘরে থাকা নগদ আড়াইলক্ষ টাকাসহ প্রায় ৫লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এসময় বিস্ফোরণের আগুনে দগ্ধ হয়ে দুইজন গুরুতর আহত হয়। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার শ্রীনগর মধ্যপশ্চিমপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে।
জানাযায়, শনিবার সন্দ্যা ৭টা ২০মিনিটে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের মধ্যপশ্চিমপাড়া গ্রামের কবীর হোসেনের বসত বাড়িতে বৈদ্যতিক সর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটে। পরে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে রান্না ঘরে থাকা দুটি গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘরের আলমারিতে রক্ষিত কবীর হোসেনের ছেলে জয় (১৮) এর সৌদি আরব যাবার জন্য সুধের উপরে আনা নগদ আড়াইলক্ষ টাকা ও পাসর্পোটসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে অন্তত ৫লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়।
ক্ষতিগ্রস্থ কবীর হোসেন জানান, প্রথমে সন্ধ্যা ৭টা ২০মিনিটে বৈদ্যতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তেই রান্না ঘরের দুটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ভয়বহ রুপ ধারন করে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে রাত সাড়ে আটটায় গ্রামবাসীর সহযোগীতায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এঘটনায় আমার ছেলে জয়সহ আমার বাড়িতে বেড়াতে আসা ভাগিনা হেলাল উদ্দিন গুরুতর আহত হয়।
কবীর হোসেনের আরেক ছেলে নবী হোসেন জানান, আর এক সপ্তাহ পর আমার ছোট ভাই জয় সৌদি আরব যাবে বলে সুধের উপরে আড়াইলক্ষ টাকা এনে ঘরের আলমারিতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এ অগ্নিকান্ডে নগদ টাকাসহ পাসপোর্ট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং আমার ছোট ভাই জয় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এতে করে আমার ভাইয়ের বিদেশগমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা এখন নিঃস্ব।
এঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান সার্জেন্ট আবু তাহের জানান, বৈদ্যতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও পর পর দুটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে। এছাড়াও এক সপ্তাহ পরে যার বিদেশ যাওয়ার কথা সেও এখন অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পুরো পরিবারটির জীবনে ভবাবহ অন্ধকার নেমে আসলো!
এবিষয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মুছা ভূইয়া জানান, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় আধঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এতে নগদ টাকাসহ আনুমানিক ৫লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হলেও অন্তত দশলক্ষ টাকার মালামাল আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি।