কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জোবায়েদ ইসলাম হৃদয় (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘাতক স্বামী জোবায়েদ ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার মাইছপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের পুত্র ও নিহত স্ত্রী রাজিয়া আক্তার আবুনি (২৮) ভৈরব পৌর শহরের নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়ার মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।
নিহতের বড় ভাই খলিল মিয়া জানান, জুবায়েদ মাদকসেবনকারি ও ভবঘুরে প্রকৃতির মানুষ। আমার বোন তার দ্বিতীয় পক্ষ। জোবায়েদ কিছুদিন পর পর মেয়েদেরকে বিয়ে করে টাকা পয়সা নিয়ে তালাক দিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, গত ৩তারিখ জোবায়েদ ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় নিজের বাড়িতে নিয়ে তার তৃতীয়পক্ষের আরেক বউকে সাথে নিয়ে আমার বোনকে বেধরক মারধর করে। এছাড়াও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত করে। পরে আবুনিকে ভাগলপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাতে সে মারা যায়।
নিহতের ফুফু পুর্নিমা বেগম জানান, জোবায়েদ বিভিন্ন ভাবে মেয়েদেরকে প্রেমের ফাদে ফেলে বিয়ে করে এবং কিছুদিন পার হলেই মারধর করে তালাক দিয়ে দেয়। বিয়ের পর এসব জানার পর আবুনি ও জোবায়েদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝগড়া চলছিল। তাই আবুনি তার আগের পক্ষের ছেলেকে নিয়ে ভৈরবেই রাস্তার পাশে পিঠা ও মুরগির দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল।
নিহতের খালাতো বোন হনুফা বেগম জানান, জোবায়েদ টাকার জন্য আবুনিকে প্রায়ই মারধর করতো। সে একাধিক বিয়ে করেছে জেনে আবুনি তার স্বামীর বাড়িতে না থেকে বাবার বাড়িতেই থাকতো। তিনি আরো জানান, আবুনি চার বছর মালয়শিয়া থেকে বাড়িতে আসলে জোবায়েদ আবুনির টাকা পয়সার লোভে পরে তাকে প্রেমের ফাদে ফেলে বিয়ে করে। তবে এ বিয়ে আবুনির পরিবার মেনে নেয়নি।
এদিকে এঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এবিষয়ে ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ বাহালুল খান বাহার এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি যেহেতু ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার সেহেতু সেখানকার প্রশাসনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।