কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দোকানের ভিতর থেকে প্রবাল ভূইয়াঁ (১৭) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাং এর সদস্যরাই হত্যাকান্ডের পিছনে জড়িত বলে ধারণা বিভিন্ন সূত্রের।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে পুলিশ ভৈরব সদরের বাসস্ট্যান্ড দুর্জয় মোড় এলাকার সরদার হোটেলের পিছনে শাকিল মটরস নামের একটি দোকানের তালা ভেঙ্গে তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত প্রবাল ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকার বেসরকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মাতৃকা জেনারেল হাসপাতালের মালিক হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। হোসেন ভ’ঁইয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ আজ বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। খুনিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান পরিচালনা করছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় কয়েক কিশোরের মাঝে ঝগড়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাং লীডার হিসেবে পরিচিত অন্তর (১৮) ও তার কয়েক সহযোগী রক্তমাখা কাপড় নিয়ে ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। অন্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে এবং চার নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম শিমূলের চাচাত ভাই।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম শিমূলের মালিকানাধীন সরদার হোটেল ও রেস্টুরেন্টের পিছনের শাকিল মটরসের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে প্রবালের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায়।
নিহত প্রবাল তার পিতার মালিকানাধীন মাতৃকা জেনারেল হাসপাতালের উপর তলায় পরিবারের সাথে বসবাস করতেন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে প্রবাল ছিল চতুর্থ। সে গত এসএসসি পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় চলতি বছর পরীক্ষার জন্য অপেক্ষয়মান ছিলো।
এদিকে নিহত প্রবালের ভাই ডাঃ প্রিন্স ভূঁইয়া জানান, এই চক্রটি এর আগে ঈদের দিনও তার ছোট ভাইয়ের উপর আক্রমণ করেছিলো। তখন তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিষয়টিকে সমবয়সীদের মধ্যে ছোটখাট ঝগড়া বলে মনে করেছিলেন তারা। তবে সে ঘটনার পর থেকে প্রবাল খুব আতংক আর ভয়ের মাঝে দিন কাটাতো। খুব একটা বাইরে বের হতো না। তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। লাশ দাফন-কাফনের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।