কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও ভৈরব সংযোগ সেতু আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান সেতুতে ঈদের ছুটিতে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে মানুষের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রচুর ভীড় দেখে অনেক দর্শনার্থী প্রায় ৮/১০টি নৌকা ভাড়া করে, নৌকায় উচ্চ স্বরের স্পিকার লাগিয়ে ব্রিজের চারপাশে নাচানাচি করতেও দেখা গেছে।
সারা দেশে করোনা মহামারীর প্রকোপ বৃদ্ধি পেলেও ঈদকে সামনে রেখে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন কিছুদিনের জন্য শিথিল করে। শিথিলের প্রজ্ঞাপনে পর্যটন এলাকা বন্ধ থাকবে বলা হলেও, এই বিধিনিষেধ অমান্য করেই শিথিলের শেষ দিনে আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান সেতুতে মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে।
বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) বিকাল ৬ টা বাজে সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, এই সেতুতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে কিছু সংখ্যক দর্শনার্থী মুখে মাস্ক ব্যবহার করলেও, অধিকাংশ দর্শনার্থীর মুখে ছিলোনা কোনা মাস্ক আর স্বাস্থ্যবিধিরতো বালাই নেই কারও মাঝে।
করোনার এই ঝুঁকির মধ্যেও বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে আসলেও মানুষের জোয়ার কেবল বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ এসে দর্শনার্থীদের ঘরমুখো করে।
সচেতন মহলের শঙ্কা, এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে কিশোরগঞ্জে। এমনিতেই কিশোরগঞ্জে প্রতিদিন শতাধিক আক্রান্ত ও মৃত্যুও হচ্ছে। এর মধ্যে মানুষের এমন অসচেতন মনোভাব, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহতার দিকে নিবে।
শুক্রবার ২৩ শে জুলাই থেকে সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়্যান্ট সংক্রমণের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ১৪ দিন সম্পূর্ণ’ কঠোর লকডাউন’ বা সবকিছু বন্ধ রাখার ঘোষণা হয়েছে। জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, সরকারী বেসরকারি অফিস-আদালত শিল্পকারখানাসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।