নওগাঁ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রশিদ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট) বাবদ ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া করোনা মহামারির মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে বেতন বাবদ ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক প্রকার ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া শিক্ষক রয়েছে ২১ জন ও কর্মচারী ১১ জন। প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সময় ২ হাজার ৭৫০ টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয়। এছাড়া প্রতিমাসে সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের বেতন ১ হাজার টাকা করে। তবে প্রথম বর্ষে ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা এবং বাঁকী বর্ষগুলো ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্রের জন্য ৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে টাকা নেওয়া হলেও কোন রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র বাবদ ৫০০ টাকা আদায় যেন প্রতিষ্ঠানের ন্যায্য অধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানান, প্রবেশপত্রের ফি বাবদ যে টাকা নেওয়া হচ্ছে তার কোন রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া করোনার মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রতিমাসের বেতন নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে। যদি বেতনের টাকা কিছু কম নেওয়া হতো আমাদের জন্য ভাল হতো। এতো টাকা দেওয়াও আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য। এক প্রকার বাধ্য হয়েই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত বেতন ও প্রবেশপত্রের টাকা দিতে হচ্ছে।
নওগাঁ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ আব্দুল্লহ আল সাফায়েত শামীম বলেন, প্রবেশপত্র বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে তা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষঙ্গীক কাজে ব্যয় করা হয়। অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে বেতন দিতে পারেন না। তবে প্রতি বছর শেষ সময়ে পরীক্ষার আগে বেতন পরিশোধ করে। রশিদ ছাড়া কেন পরীক্ষার ফি নেওয়া হচ্ছে এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি তিনি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বেতনের বিষয়ে বোর্ড থেকে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় বেতন আদায় করা হচ্ছে। প্রতিমাসের ১ হাজার টাকা বেতনের বিষয়টি বোর্ড কর্তৃক অনুমোতি আছে বলে জানান তিনি।
নওগাঁ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ টি আমরা নিয়ন্ত্রন করিনা। আমাদের জন্য সরকারের নির্দেশনা করোনাকালে বেশকিছু ফি নেওয়া যাবে না। তবে টিউশনি ফি আগে থেকে যা ছিল সেটা নিতে পারবে। এর বেশিও নেওয়া যাবে না। তারপরও বলা হয়েছে- দরিদ্র শিক্ষার্থী আছে যারা টিউশনি ফি দিতে পারবে না তাদের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে। যেন টাকার জন্য স্কুল ছেড়ে চলে যেতে না হয়।