কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ১৩ টি হাট-বাজারগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে শরীরে উত্তেজনাকর কোমল পানীয়। বণিক সমিতির অভিযোগ , এগুলো বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অবাধে এগুলো বিক্রি হচ্ছে।
নিকলী পুরাতন বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নয়ন সাহা ও নিকলীর বিভিন্ন বাজারের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে , উপজেলা পুরাতন বাজার , নতুন বাজার , হাসপাতালের মোড় , পুড্ডা বাজার , মজলিসপুর বাজার , দামপাড়া বাজার , সিংপুর বাজার , জয়বাংলা বাজার , বৌ বাজার , জারুইতলা বাজার , গুরুই নতুন বাজার , ছাতিরচর বাজারসহ গ্রামের ভিতরে থাকা ছোট-ছোট মুদির দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে শরীরে উত্তেজনাকর পানীয় পাগলু , ফিলিংস , সেভেন হর্স , অ্যাষ্টিভ , ডাবল হর্স , ব্যল্ক হর্স , ডাবলু ডক , ক্লাকিল সর্হ। এ ছাড়া এসব দোকানে আরও কয়েক প্রকার কোমল পানীয় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন শরীরে উত্তেজনাকর কোমল পানীয়তে মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল পাওয়া যাওয়ায় সরকার সম্প্রতি এ ধরনের অনেক পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। কিন্ত কোন ব্র্যান্ডের পানীয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার কোনো তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নেই।
কয়েকজন দোকানি ও এসব পানীয় সেবনকারী কয়েকজন ব্যক্তি জানান , বাজারে বর্তমানে যেসব পানীয় বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে অনেক ব্র্যা-ের বোতলের গায়ে হারবাল সিরাপ লেখা রয়েছে। কিন্ত এসব পানীতে বেশি মাত্রায় অ্যালকোহল থাকায় এসব পানীয় পান করলে শরীরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
গত মঙ্গলবার উপজেলা সদরের কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায় , সন্ধ্যার পর যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সের পুরুষ শরীরে উত্তেজনাকর কোমল পানীয় কিনছেন। ক্রেতা এসব ধরণের পানীয় চাওয়া মাত্রই দোকানি টাকা নিয়ে পেপার কাগজে মুড়িয়ে ক্রেতাকে তা দিয়ে দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা সদরের একজন দোকানি জানান , বেশির ভাগ দোকানে এ ধরণের কোমল পানীয় রাখে বলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনি নিজেও খুব কম পরিমাণে এ ধরণের পানীয় দোকানে রাখেন। তবে তিনি এগুলো প্রাপ্ত বয়স্কদের নিকট বিক্রি করেন। এসব পানীয় প্রতি ২৫০ মিঃলিঃ বোতল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা দামে বিক্রি করেন।
শরীর উত্তেজনাকর কোমল পানীয় পান করা এক যুবক (২৫) জানান , কয়েক দিন আগে রাতে বন্ধুদের উসকানিতে সেভেন হর্স নামের একটি কোমল পানীয় বোতল খেয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করে। ভয়ে কয়েক ঘন্টা বাড়িতে না গিয়ে বেড়িবাঁেধ বাতাসে বসে ছিলাম। ওই রাতেই বুঝতে পেরেছি ওই পানীয় শরীরের জন্য ভালো না। বিশেষ করে দোকানিরা বেশি মুনাফার লোভে এসব পানীয় বিক্রি করছেন। তা ছাড়া প্রশাসনও এসব নিয়ে তেমন নজরদারি করছেন না। ফলে দোকানিরা অবাধে এসব পানীয় বিক্রি করছেন।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক খাঁন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন , এসব পানীয় ওষুধের তালিকার মধ্যে পড়ে না। এ গুলো খাদ্য হিসেবে গণ্য কিনা বিএসটিআই সেগুলো অনুমোদন দেওয়া ও নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে। তবে ওইসব শরীর উত্তেজনাকর কোমল পানী পান করলে কিডনি নষ্টসহ হার্টে রোগীদের জন্য মারাতœক সমস্যা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসসাদিক জামান বলেন , ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়টি বিএসটিআই দেখে। যে সকল পণ্যে বিএসটিআই এর সিল নেই, সে গুলো বিক্রি করা দ-নীয় অপরাধ। এ ধরণের শরীল উত্তেজনাকর পানীয় সরকার নিষিদ্ধ করেছে জানি। কিন্ত নিষিদ্ধঘোষিত এসব কোমল পানীয়ের নামের কোনো তালিকা আমাদের অফিসে নেই। তবে অবাধে শরীরে উত্তেজনাকর এসব কোমল পানীয় বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে এসব পানীয় বিক্রি করা দোকানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।