তিনমাস আগেও যেখানে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বোনের বাড়িতে বসবাস করতেন। একটি বেড়ার ঘরে গরু ও মুরগিসহ গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয়েছিল। এমন জীবন চিত্র ছিল নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের বড় মহেশপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (আদিবাসী) দীপালি’র। বর্তমানে দীপালি’র জীবনমানের পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীপালি’র স্বামী পরেশ পাহানের নামে সেমিপাকা (আধাপাকা) একটি বাড়ি দেওয়া হয়েছে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা (আদিবাসী) দীপালি বলেন, আমরা গরীব মানুষ। জমি কিনে ঘর করার সামর্থ্য নাই। আর বোনের একটি বেড়ার ঘরে গাদাগাদি করে থাকতাম। ঝড়বৃষ্টি হলে টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ত। ফুটোর নিচে হাড়িপাতিল দিয়ে রাখতাম। দুশ্চিন্তায় রাত পাড়ি দিতে হতো।
তিনি বলেন, কষ্ট করে সামান্য জমি কিনেছি। জমিতে সরকার থেকে স্বামীর নামে একটি ইটের বাড়ি তৈরী করে দিয়েছে। গত তিনমাস থেকে বাড়িতে বসবাস করছি। এরপর হাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল পালনে সুবিধা হচ্ছে। একটি বলদ গরুও পালন করছি। বাড়ি পাওয়ার পর দু’বেলা দুমুঠো খেয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর দেওয়ার পর স্বামী-সন্তানদের নিয়ে এখন শান্তিমতো ঘুমাতে পারছি।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সেমিপাকা (আধাপাকা) ইটের বাড়ি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেখানে প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে চৌচালা টিনের ছাউনির দুইটি ঘর। যার দৈর্ঘ্য ২০ ফুট এবং প্রস্থ ১০ ফুট সহ মেঝে পাকাকরণ। প্রতিটি ঘরে একটি করেন ও রান্না ঘরে একটি দরজা। এছাড়া জানালা রয়েছে পাঁচটি। ঘরের সাথে লাগানো রয়েছে বাড়ির একপাশে রান্নাঘর, টয়লেট, স্টোররুম এবং অপরপাশে একটি পাকা বারান্দা ও সিড়ি। উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা (আদিবাসী) আধাপাকা ইটের বাড়ি পেয়ে আনন্দে অশ্্রুসিক্ত। আর এ বাড়িগুলো পাওয়া ছিলো যেন তাদের আলাদিনের চেরাগের মতো। যা ছিল কল্পনাতিত। নিশ্চিতে তারা এখন সেই বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন।
বড় মহেশপুর গ্রামের শিক্ষার্থী মিষ্টিমনি জানায়, সে নবম শ্রেনীতে পড়ে। মাটির তৈরী দু’টো কুড়ো ঘরে ছয় ভাইবোন নিয়ে বসবাস করতো। এক ঘরে সবাই কষ্ট করে থাকতে হতো। মাস কয়েক আগে বাবার (জগেন্দ্রীশ পাহান) নামে একটি ইটের পাকা বাড়ি দেওয়া হয়েছে। নতুন বাড়ি পেয়ে মিষ্টিমনি খুবই খুশি। পড়াশুনার প্রতি তার আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে বলে জানায়।
বড় মহেশপুর আদিবাসী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরা লাল পাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের মতো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের (আদিবাসী) জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করেছেন। জীবনমান উন্নয়নে হতদরিদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ইটের বাড়ি উপহার দিয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তিসহ শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়েছে। তবে যে পরিমাণ বাড়ি উপহার দেওয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি আগামীতে যেন বাড়ির বরাদ্দ আরো বাড়ানো হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মুলতান হোসেন বলেন, হতদরিদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (আদিবাসী) যাদের বসবাস করার মতো ঘর নাই। আবার অনেকে কুড়োঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে বসবাস করত। প্রধানমন্ত্রী তাদের জীবনমান উন্নয়নে ইটের বাড়ি উপহার দিয়েছেন। আমরা যতœসহকারে সেসব অবকাঠামো তৈরী করেছি। এ উপজেলায় যে পরিমান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস প্রয়োজনের তুলনায় বাড়ির বরাদ্দ কম। আমাদের আরো চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী অনেক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে তিন দফায় ৫৪টি ঘর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় এসব ইটের ঘর তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। শতাধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ইটের ঘর তৈরী করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশসহ পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বাড়ি ছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যেসব শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের শিক্ষারমান উন্নয়ন সাইকেল ও বৃত্তিসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।