ফলোআপ:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বালতির পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় ১৫দিন বয়সী নবজাতকের লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি হত্যাকান্ড নয়। বরং নিজের অসাবধানতার কারণে গোসল করানোর সময় হাত থেকে পরে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যু হয়, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন নিহত নবজাতকের মা। গত ৫নভেম্বর ভৈরব পৌর শহরের কালিপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে।
প্রসঙ্গত ইদ্রিস-সাকিলা দম্পতির প্রথম সন্তান ১৫দিন বয়সী নবজাতক শিশু আয়ানের লাশ পাওয়া যায় বাথরুমের বালতির পানিতে। ওইসময় লিখিত কোনো অভিযোগ না দিলেও পরিবারের মৌখিক অভিযোগ ছিল ঘুমন্ত মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে শিশু আয়ানকে। এ প্রেক্ষীতে তদন্ত শুরু করে ভৈরব থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় নিহতের বাবা-মা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও। টানা এক সপ্তাহ জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার রহস্য উন্মোচনে সবশেষ মুখ খুলেন নির্বাক মা সাকিলা বেগম। স্বামীর কাছে দায় স্বীকার করে সাকিলা জানান, নিজের অসাবধানতার কারেণ গোসল করানোর সময় হাত থেকে পড়ে গিয়ে নবজাতক শিশু আয়ানের মৃত্যু হয় এবং স্বামী ও পরিবারের ভয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মৃত সন্তানের লাশ বাথরুমে বালতির পানিতে ডুবিয়ে রেখে ঘুমিয়ে থাকার ভান করেছিলেন তিনি। পুরো ঘটনাটি নবজাতকের বাবা ইদ্রিস মিয়া পুলিশকে জানালে পুলিশের কাছেও এসব কথা স্বীকার করেন নিহত নবজাতকের মা সাকিলা বেগম।
এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনার পর থেকে ময়নাতদন্তসহ সত্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে নিহত নবজাতকের মা-বাবাসহ পরিবারের সকল সদস্যদের কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষীতে শিশুটির মা প্রথমে স্বামীর কাছে ঘটনার দায় স্বীকার করেন এবং পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি পুরো ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়াও ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত এবং অসাবধানতাবশত হওয়ায় এর আইনি পরিণতি কি হবে তা এখনো পরিষ্কার নয় বলে জানান তিনি।