কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে আহত করে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশবাদী মামলায় মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন আশরাফুল আলম বিজন (৪৬), আকবর আলী (২৩), নমিন (২২), তানিম (২২), মোস্তাকিম(২৬), রানা (২৮) ও রিপোন(২১)। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে মামলার এজাহারে নাম আছে আকবর আলী ও রানা মিয়ার।
গত সোমবার গভীর রাতে আকবর আলী ও রানাকে গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার রাতভর পুলিশের সাড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে ভৈরব শহর পুলিশ ফাড়িঁর একটি দল অজ্ঞাঅজ্ঞাতনামার তালিকা থেকে বাকি চার আসামীকে গ্রেফতার করে। পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ভৈরব শহর পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ শ্যামল মিয়া। এছাড়াও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে সাড়াশি অভিযান চলমান আছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য গত ১২ডিসেম্বর, রবিবার রাসেল নামের মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার এক আসামীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তার সহযোগি মাদক ব্যবসায়ীরা। সন্ধা ৭ টার দিকে শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকায় একটি রিক্সার গ্যারেজে এঘটনা ঘটে। রাসেল ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার তমিজ উদ্দিনের ছেলে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সামান্তা ইসলাম তাদের প্রয়োজীয় চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন। আহতদের মধ্যে এ এস আই রেজাউল করিমের হাতে ও গলায় ও আব্দুল করিমের হাতে সেলাই দিতে হয়েছে।
এ ঘটনায় এস আই আঃ করিম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্ল্যেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করে ঘটনার রাতেই একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধা ৭ টার দিকে একটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারী পরোয়ানার আসামী রাসেলকে শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকা থেকে আটক করেন ভৈরব থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এ এসআই) রেজাউল করিম ও আব্দুল করিম। তারা তাকে পাশের একটি রিক্সার গ্যারেজে নিয়ে জিজ্ঞাসা বাদ করছিলো। এমন সময় একাধিক মামলার আসামী সানি ও মামুন নামের দুই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে অতর্কিত পুলিশের উপর হামলা চালায় এবং দা-রড দিয়ে আঘাত করে দুই পুলিশ কে আহত করে আসামী রাসেল কে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।