বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন জাতীয় চরিত্রের একটি ঐতিহাসিক আন্দোলন। ভাষার জন্য পৃথিবীতে কেউ শহীদ হয়েছেন এমন নজির নেই কোনো দেশে। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য আন্দোলন করে শহীদ হয়েছেন রফিক, সালাম, বরকত ও জব্বারসহ বাংলার আরও অনেক নাম না-জানা দামাল ছেলে।
ভাষার জন্য প্রাণ দেয়া শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আমাদের দেশে বর্তমানে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারিভাবে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে পাকিস্তান আমলে প্রথম নির্মাণ করা হয় একটি শহীদ মিনার। নিকলী উপজেলার গোড়াচাঁদ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজ, নিকলী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিকলী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্্েরর সামনে। ওই সময় ছাত্ররা টাকা তুলে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী শহীদ মিনারটি ভেংগে ফেলে। ছাত্ররা আবারও নিজেদের মধ্যে টাকা তুলে পুনঃরায় শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেন।
প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলে উপজেলাসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফরের কর্মকর্তারা এই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। দিবসটি চলে গেলে শহীদ মিনারটি থাকে অযত্নে অবহেলায়।
বুধবার ( ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার প্রথম শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনারে ময়লা-আবর্জনা ভর্তি। শহীদ মিনারের সামনে-পেছনে গাছের পাতা পড়ে স্তুপ হয়ে গেছে। শহীদ মিনারের রঙ ময়লায় মুছে গেছে। লোহার গেইট ও বেড়া ভেঙে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে শহীদ মিনারের সামনের-পেছনের অংশ।
অথচ উপজেলার সব কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। কিন্ত শহীদ মিনারটির এ অবস্থা কারও নজরে পড়ে না। আটরদিন পরই ২১ ফেব্রুয়ারি। দিবসটি উপলক্ষে শহীদ মিনারটি আবারও পরিষ্কার-পরিছন্ন করে সাজানো হবে।
মুক্তিযোদ্ধা আঃ রশিদ ইত্তেফাককে জানান, উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রথম শহীদ মিনারটি বছরের সবসময় পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকা প্রয়োজন। বছরের একদিন স্মরণ করলেও সবসময় শহীদ মিনারটি পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখা জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবু হাসান বলেন, মাত্র কয়েক দিন আগে নিকলীতে যোগদান করেছি আমি। বিষয়টি আমি জানি না এবং দেখিনি। এ জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি আজই শহীদ মিনারটি পরিষ্কার-পরিছন্ন করার ব্যবস্থা করব। শহীদ মিনারটি সবসময় পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখার ব্যবস্থা করা হবে।