মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের যোগিবিল গ্রামের সমাজে সবচেয়ে অনগ্রসর দরিদ্র শব্দকর পরিবারের সন্তান প্রশান্ত শব্দকর। ছোটবেলায় হারিয়েছেন বাবা ঈরেশ শ্বব্দরকে। সংসারই চলছিল না। মা অন্যের ঘরে কাজ করে সংসার ও পড়াশোনার খরচ বহন করে। কিন্তু লেখাপড়ার খরচ চলবে কি করে ? বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সংসার চালানো নিয়ে চিন্তায় পড়েন মা, কি করবেন, কিভাবে চলবেন, কিভাবে আমাদের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে যাবেন। পরিবারে ৫জন সদস্য। বড় ভাই একটা ফার্মেসীতে কাজ করেন, তিনি আলাদা তান পরিবার নিয়ে থাকেন,আমাদের কোন সহযোগীতা করেন না।
মা অসুস্থ শরীর নিয়ে বাড়ি বাড়ি কাজ করেন। কিন্তু লেখাপড়া করতে চাই। আগ্রহের কমতি নেই, মেধাও রয়েছে। সুতরাং হাল ছাড়া যাবে না। লেখাপড়া করতে হবে, পরিবারের হাল ধরতে হবে। চেষ্টারও কমতি নেই। কমলগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীায় ‘গোল্ডেন এ-প্লাস’, পরবর্তীতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীায় ৪.৮৫ এবং এবারের এইচএসসি পরীায় মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ‘গোল্ডেন এ-প্লাস’ পায়। গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে চিন্তায় দিন গুনছে এ মেধাবী ছাত্র প্রশান্ত শব্দরের।
ফলাফল প্রকাশের পর আলাপকালে প্রশান্ত জানায়, কি করবো আমি বুঝতে পারছি না? ছোট বেলা থেকেই কষ্ট করে আসছি। কখনও কখনও না খেয়ে স্কুলে গিয়েছি কিন্ত বাদ দেইনি স্কুল ও কলেজের পড়াশোনা। এখন অসুস্থ, চলা দায় হয়ে পড়েছে। স্কুলে পড়া কালীন সময়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য স্যাররা সাহায্য করেছেন, কলেজে ভর্তি হওয়ার পর কলেজ অধ্যসহ বিভিন্ন জন সহযোগিতা করেছে। আমি তাদের কাছে সারাজীবন ঋৃণি হয়ে থাকবো। আমি এখন ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়তে চাই। কিভাবে ভর্তি হবো, কিভাবে কি করবো এখন আর মাথায় কাজ করছে না। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলে পরবর্তীতে সে বিসিএস পরীা অংশ নিয়ে একজন বিসিএস ক্যাডার হয়ে এলাকার ও দেশের জন্য কাজ করতে চায়। তবে তার মধ্যে আশঙ্কা কাজ করছে দারিদ্রতা তাকে এ সুযোগ করে দিবে কিনা তা ভেবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান নিয়াজ মুর্শেদ রাজু বলেন, প্রশান্ত শব্দকর আমার ইউনিয়নের। আমি ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বচ্চ সহযোগীতা করা হবে।
আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রশান্তকে সহযোগীতা করা হবে।