কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স (সিন্দুক) তিন মাস ১৩ দিন পর আবারও খোলা হয়েছে। এরপর ২৮টি বস্তায় টাকাগুলো ভরা হয়। টাকা গণনা করে ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩ শ ৪ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া স্বর্ণ-রুপাসহ বেশ কিছু বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৭টায় মসজিদ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মো. হাছান চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর টাকাগুলো সিনথেটিক বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলার মেঝেতে ঢেলে মসজিদ কমিটি ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গণনা শুরু করা হয়।
পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের নূরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদাসার ১২৮ জন ছাত্র, ৩৫ জন শিক্ষক ও স্টাফ, আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার ১৫০ জন ছাত্র, রূপালী ব্যাংকের ৭৫ জন স্টাফ টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন। ছোট ছোট শিক্ষার্থী এত বিপুল পরিমাণ টাকা গুণতে বেশ আনন্দ পায়। মাঝে মাঝে টাকাগুলো শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে সেই আনন্দ প্রকাশ করে তারা। এক ছাত্র দেখালো, কোন এক ব্যক্তি ৫০০ টাকার নোটের ব্যাংকে পিনআপ করা একটি বান্ডেল (৫০ হাজার টাকা) দিয়েছেন।
দেশি মুদ্রার পাশাপাশি পাওয়া গেছে বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা এবং সোনা-রুপার অলংকারও। কেউ কেউ ৫০০ টাকা নোটের বান্ডেলও (৫০ হাজার টাকা) দান করেছেন। পাওয়া গেছে মনোবাঞ্ছা পূরণের আর্তি প্রকাশ করা বহু চিঠি ও চিরকুটও। সার্বিক তদারকি ও নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন প্রশাসন ক্যাডারের ৯ জন কর্মকর্তা, ১০ জন সেনা সদস্য, ১৬ জন পুলিশ সদস্য ও ৯ জন আনসার সদস্য। গণনার ফাঁকে ফাঁকে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে, সর্বশেষ চলতি বছরের ১৭ আগষ্ট মসজিদের দান বাক্স খুলে গণনা করে ৭ কোটি ২২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়াও স্বর্ণ ও রূপাসহ বেশ কিছু বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে আনুমানিক চার একর জায়গায় ‘পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স’ অবস্থিত। প্রায় আড়াইশ বছর আগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়। এই মসজিদের প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে, যা ভক্ত ও মুসল্লিদের আকর্ষণ করে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে, এখানে মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। আর এ কারণেই মূলত দূর-দূরান্তের মানুষও এখানে মানত করতে আসেন।