কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিতাস গ্যাসের আন্তঃজেলা সঞ্চালন পাইপলাইনের একটি ছিদ্র দিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে গ্যাস বের হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি চুন কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার সময় পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি জানানো হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন তারা।
শনিবার (২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে আসা তিতাস গ্যাসের আন্তঃজেলা সঞ্চালন পাইপটি কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামের আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড় দিয়ে গেছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে পাইপটি পানির নিচে চলে যাওয়ায় সেখানে সারাক্ষণ গ্যাসের বুদবুদ উঠতে দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক বছর আগে নদীর পাড়সংলগ্ন ঝোপঝাড় ও কলাবাগানঘেরা নির্জন এলাকায় ভাড়া নেওয়া জমিতে একটি পাথর-চুন তৈরির কারখানা স্থাপন করেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাজনা মহল এলাকার বাবরু মিয়া তালুকদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন তালুকদার। কারখানাটিতে বৈধ গ্যাস সংযোগ না থাকায় গত জুন মাসের শুরুতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় সঞ্চালন পাইপে ছিদ্র হয়ে গ্যাস নির্গমন শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় যুবক মো. রবিন মিয়া বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকট চলছে। অথচ এখানে প্রায় দুই মাস ধরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
আরেক স্থানীয় যুবক মাহফুজ মিয়া বলেন, “স্থানীয় কিছু লোকজনের সহযোগিতায় চুন কারখানার মালিক অবৈধ গ্যাস সংযোগের চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি তিতাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। আমাদের সন্দেহ, গ্যাস কর্তৃপক্ষের কিছু লোকও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শনিবার কারখানায় গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন তালুকদারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ তিতাস গ্যাস আঞ্চলিক বিপণন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, “আন্তঃজেলা সঞ্চালন পাইপটির দায়িত্ব ময়মনসিংহ অফিসের অধীনে। নদীতে পানি বেশি থাকায় মেরামতকাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে দু-এক দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। পাইপে কীভাবে ছিদ্র হয়েছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পাইপলাইন মেরামতের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।