মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

ট্রলি ব্যাগে নারীর লাশ: প্রেমের সম্পর্কের পর হত্যা, গ্রেপ্তার প্রেমিকসহ তিন

জাতীয় ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে
ট্রলি ব্যাগে নারীর লাশ: প্রেমের সম্পর্কের পর হত্যা, গ্রেপ্তার প্রেমিকসহ তিন

গাজীপুরে মহাসড়কের পাশের খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত ও খণ্ডিত নারীর পরিচয় শনাক্তের দাবি করেছে পিবিআই।

তদন্তকারী সংস্থাটি বলছে, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের চাপ দেওয়ায় ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ কেটে দুই টুকরো করা হয়।

এ ঘটনায় নারীর ‘প্রেমিক’ তার মা ও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা রোববার আদালতের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।

শুক্রবার বিকালে সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়।

নিহত ডলি আক্তার (৩০) ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ডলি গাজীপুরের বানিয়ারচালা একটি কারখানায় কাজের পাশপাশি ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

পরিচয় শনাক্তের পর নিহতের বড় ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. মাসকুর আলমের ছেলে তৈরি পোশাক শ্রমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বুড়াবুড়ি গ্রামের মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)। তাদেরকে গাজীপুর মহানগরের বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার পৃথক ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, ডলি আক্তার জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। একই কারখানায় চাকরির সুবাদে মিশন ইসলামের সঙ্গে তার পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের বাসায় যান ডলি। মিশন, তার মা ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে ডলি ও নিশাল আলাদা ঘরে থাকতে যান।

পিবিআই বলছে, বিয়ের সিদ্ধান্ত ও আগের বিভিন্ন বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মিশন ডলিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে মিশন। হত্যার পর লাশ খাটের নিচে রেখে দেয়। পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করতে এসে বানু আক্তার লাশ দেখতে পান।

লাশ গুম করতে বাজার থেকে স্যুটকেস কিনে আনেন মিশন। তবে পুরো দেহ স্যুটকেসে না ধরায় বটি ও ব্লেড দিয়ে লাশ কোমর থেকে দুই টুকরো করা হয়। খণ্ডিত এক অংশ স্যুটকেসে এবং অপর অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। বাসা বদলের কথা বলে মিশন তার বন্ধু মিল্টনকে ডেকে আনেন।

পরে সুটকেস ও বস্তায় ভরা লাশ অটোরিকশায় করে ভবানীপুর ব্রিজে নিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়।

লাশ উদ্ধারের পর পরই ঘটনার তদন্তে নামে পিআইবি। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মিশনকে এবং পরে বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তাদের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, ধারালো ব্লেড, স্কচটেপ এবং ভিকটিমের এনআইডি কার্ড ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com