শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির খবরে মহিলা মাদ্রাসায় আগুন দিল স্থানীয়রা, শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ সৌদিতে ফের হুতি হামলার নিন্দা বাংলাদেশের ভারতের প্রধান ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় সাইবার হামলা সৌদির বিভিন্ন কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি আছেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু দাম্মামের সব ফ্লাইট তিন দিন বন্ধ, রিয়াদ রুটে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত কিশোরগঞ্জে দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান বদলগাছীতে রাতের আঁধারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙচুর, এলাকায় ক্ষোভ হোসেনপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতার আহ্বান কিশোরগঞ্জে পাগলা শিয়ালের আক্রমণে নারী-শিশুসহ আহত ৩, ছাগলও রেহাই পায়নি

বর্ষায় নিকলীর এক একটি গ্রাম যেন একটি দ্বীপ

দিলীপ কুমার সাহা
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯
  • ৮৮৩ বার পড়া হয়েছে

ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রামগুলি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত “দুই বিঘা জমি” কবিতার পংক্তিমালার মতই কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের গ্রামগুলো। তবে বর্ষায় উপজেলার হাওরে এক একটি গ্রাম মনে হয় এক একটি ভাসমান দ্বীপের মতো। সে সময় কোনো অচেনা অজানা মানুষকে বিশ্বাস করানোই যাবে না যে এটা কোনো দ্বীপ নয়, এটি একটি গ্রাম। এসব গ্রামে বাস করে অসংখ্য মানুষ । ছবির মতো সুন্দর এ গ্রামগুলোতে রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস।

 

সরেজমিনে নিকলীর হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরের পানি, হাওরের মাটি যেন প্রকৃতির এক অকৃপণ দান। শুকনা মৌসুমে হাওরের মাটিতে যেমন ফলে সোনালী ধান তেমনি বর্ষায় হাওরের ভাসান পানিতে পাওয়া যায় রুপালী মাছ। তবে বর্তমানে হাওরে মাছের অভাব না থাকলেও ইজারাদারদের কাছে জেলেরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। মাছ ধরতে গেলে ইজারাদাররা জাল কেড়ে নিয়ে যায়। এছাড়া প্রকৃতির বৈরিতা হাওরের মানুষের চোখের নোনা জল ঝরিয়েছে বারবার।

 

উপজেলার মানুষদের বর্ষাকালে চলাচলের একমাত্র বাহন নৌকা। নৌকা ছাড়া এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়ার কথা কল্পনাও করা যায় না। এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশুদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হয় নৌকায় চড়ে। অন্যদিকে বর্ষায় হাওরে একটু বাতাস হলেই সৃষ্টি হয় কক্সবাজারের মতো বড় বড় ঢেউ। সেই ঢেউ উপেক্ষা করে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে দুলতে দুলতে জেলেরা যায় হাওরে মাছ ধরতে। ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা লঞ্চে চড়ে মাইক বাজিয়ে বর-কনে শুশুর বাড়ি যায় বিয়ে করতে।

 

এসব দৃশ্য যে কোনো মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ না করে পারে না। বর্ষায় টুকিটাকি মাছ ধরা ছাড়া হাওরের মানুষের বাকি সময় বেকার কাটে। কেউ তাস খেলে, কেউ লুডু খেলে আবার কেউ ক্যারাম খেলে সময় কাটান। তাই হাওরের মানুষের কর্মময় বছরের শুরু হয় বর্ষা শেষে কার্তিক মাসে। পুরো শীতের সময় মানুষ থাকে কর্মব্যস্ত। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে থাকে ধান কাটার ধুম। ওই ফসল ঘরে তোলতেই পানি এসে যায়।এর পর কর্মহীন কৃষকের হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে রিমঝিম বৃপিতনের শব্দ শুনে। তবে প্রায়শই অকাল বন্যার কারণে বছরের একমাত্র বোরো ধানের ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়।

 

সদর ইউপি চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়া আহমেদ তুলিপ বলেন, বর্ষায় আমরা পানিতে ভাসি। যখন আফাল (বাতাস) আসে বড় বড় ঢেউ এসে গ্রামে আছড়ে পড়ে। তখন আমাদের গ্রামের মানুষ গ্রাম রক্ষার জন্য সারা রাত পানিতে নেমে থাকে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা আফসিয়া সিরাত জানান, হাওরের গ্রামগুলি অপার সুন্দরের লীলাভূমি। বিছিন্ন গ্রামগুলিকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারলে জমি রক্ষা পাবে, আয় বৃদ্ধি পাবে ও সকল নাগরিক সুবিধা পাবে। সবকিছু মিলিয়ে সারা বছরের কর্মসংস্থান হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, নিকলীর হাওরে বর্ষায় জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে জাল পেতে যেভাবে মাছ ধরে তা দেখে ভয় হয়। তবু তারা জীবিকার তাগিদে একাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com