মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে ভর্তি হতে না পারা এক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন গ্রাম উন্নয়ন কার্যক্রম (গ্রাউক)। পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছিলেন না দরিদ্র পরিবারের সন্তান পলাশ বিশ্বাস। অবশেষে তার এ স্বপ্ন পূরণ করলেন গ্রাম উন্নয়ন কার্যক্রমের (গ্রাউক) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অশোক রঞ্জন পাল।
শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্য সহায়তা বই, খাতা, কলম ও একবছরের যাবতীয় পড়ার খরচ গ্রাউকের পক্ষ থেকে তুলে দেন অতুল কুমার পাল, সুমন্ত কুমার ও ইন্দ্রজীত ভট্টাচার্য্য।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পলাশ বিশ্বাস উপজেলার ৩ নং পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর গ্রামের রিতা রাণী বিশ্বাসের ছেলে। বিয়ের পরে এক ছেলে ও এক মেয়ে হওয়ার পর থেকেই স্বামী সুবুদ বিশ্বাস আর খবর রাখে নি রিতা রাণী বিশ্বাসের। সেই থেকেই তিনি ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি বাছিরপুরেই বসবাস করছেন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ান প্রকল্প-২ এর আওতায় তাকে একটি ঘর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরেই তিনি কুটির শিল্পের কাজ করে কোনমতে দিনপাত করে আসছেন। যেখানে দুমুঠো খাবার সংগ্রহ করাই কষ্টসাধ্য, সেখানে ছেলের লেখাপড়া করানো ছিল স্বপ্নের মত। টাকার অভাবে এ বছর এখনও ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করতে পারছিলেন না তিনি। ভর্তি না করানোর বিষয়টি জুড়ী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতির মাধ্যমে জানতে পারেন গ্রাম উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রাউকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অশোক রঞ্জন পাল। তিনি শনিবার পলাশ বিশ্বাসের কাছে বইসহ এক বছরের যাবতীয় ব্যয় পৌঁছে দেন। সেই সাথে ভবিষ্যতে যে কোন সমস্যা হলে যোগাযোগ করার জন্য বলেন।
পলাশ বিশ্বাসের মা রীতা রাণী বিশ্বাস বলেন, টাকার অভাবে আমার ছেলেকে ভর্তি করাতে পারছিলাম না। সহায়তা করার জন্য গ্রাম উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অশোক রঞ্জন পাল স্যারের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।
গ্রাম উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অশোক রঞ্জন পাল বলেন, পলাশ বিশ্বাস নামের ওই শিক্ষার্থী টাকার অভাবে ভর্তি সহ পড়ালেখা করতে পারছিল না। এ বিষয়টি জানার পর তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছি। ভবিষ্যতেও মানব কল্যানে গ্রাউক নিয়োজিত থাকবে।