বসন্তের শুরু থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গ্রাম-গঞ্জের বাড়ি বাড়ি ফেরি করে প্লাস্টিক ফুল বিক্রি করছেন হিটলার। তিনি মৌলভীবাজার জেলাসহ বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় এভাবে প্লাস্টিক ফুল বিক্রি করেন।
মঙ্গলবার (৮মার্চ) উপজেলার পতনঊষার শহীদনগর বাজারে হিটলারের সাথে কথা হলে প্রথমে তাঁর অদ্ভুত নামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবা-মা আমার এই নাম রেখেছেন। ছোট বেলা থেকেই হিটলার নামে আমাকে সবাই ডাকেন। জাতীয় পরিচয় পত্রেও আমার নাম হিটলার। এই নাম ছাড়া আমার আর কোন নাম নেই।
হিটলার বলেন, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার জান গ্রাম এলাকায় তাঁর বাড়ি। গত ১৫দিন ধরে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারে তিনি এবং তাঁর ছোট বোনের জামাই হাফিজুর রহমান থাকেন। ১৫ বছর ধরে এই পেশার সাথে যুক্ত তিনি। বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় এভাবে প্লাস্টিক ফুল ফেরি করে বিক্রি করেন। একেক জেলায় এক থেকে দুই মাস অবস্থান করে ফুল বিক্রি করেন। এসব ফুল রাতে তারা নিজে প্লাস্টিক কেটে তৈরি করে দিনে আবার বিক্রি করেন।
হিটলারের সহযোগী হাফিজুর রহমান বলেন, আমি বেশিরভাগ সময় ফুল তৈরি করি। একটা ফুল তৈরি করতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। আমরা দেশের সব জেলায় ফুল বিক্রি করি। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ফুল একটু বেশি চলে। তিনি আরও বলেন, দুই থেকে তিন মাস পর বাড়িতে যাই আমরা। জিনিসপত্রের অনেক দাম যে টাকা আয় হয় এই টাকা দিয়ে নিজে ও সংসার চালানো বড় দায়। সারাদিন হাঁটার উপর থাকতে হয়।
হিটলার আরও জানান, ২০০৭ সাল থেকে এই পেশার সাথে জড়িত, ছয় সদস্যের পরিবার প্লাস্টিক ফুল বিক্রির টাকায় এখন আর চলেনা। অনেক কষ্ট করে পরিবার নিয়ে চলতে হয়। একেকটা ফুলের দাম দশ টাকা করে বিক্রি করেন। শালপা, গোলাপ, জবা, টিউলিপফুলসহ ইত্যাদি বিক্রি করেন। প্রতি দিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার ফুল বিক্রি হয়। দিন শেষে সব খরচ বাদে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লাভ হয়। তিনি আরও বলেন, যতদিন সুস্থ থাকবেন ততদিন এই পেশা চালিয়ে যাবেন।