জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেছেন, কারও কারও অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে আইন বিভাগ যথাযথভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে আজ সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দাবি, আইন বিভাগটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং সে ক্ষেত্রে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।
ওই বিষয়ে পরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উদ্বেগের সঙ্গে বলেছি, কেন আজকে পিপি–জিপি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা যেটি বুঝতে পেরেছি, আইন বিভাগের ওপরে কোনো একটা অদৃশ্য শক্তি হস্তক্ষেপ করছে। সেটি আমরা এই মুহূর্তে আপনাদেরকে (সাংবাদিক) বলতে চাই না। এটি বুঝে নিতে হবে, কারা এবং কোন কোন ব্যক্তি এখানে হস্তক্ষেপ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। ফোরামের মহাসচিব কায়সার কামালের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ফোরামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মো. রুহুল কুদ্দুস, মো. আবদুল্লাহ আল মাহবুব, গাজী তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, নোবল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যে দুই মাসের অধিক মেয়াদ পূর্ণ করেছে। কিন্তু জনগণ অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেশ ধীরগতি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে। আইন বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। এই বিভাগের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, এ বিভাগটি কারও কারও অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে যথাযথভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।
তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের সংস্কারের জন্য একটি কমিশন করা হলেও বিচারপতি শাহ আবু নাঈমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে সিনিয়র আইনজীবীসহ বিচার বিভাগের অংশীজনদের মতামত না দিয়েই যেসব সদস্যকে ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি, অচিরেই এই বিভ্রান্তি দূর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা রাজনৈতিক দাবি করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট রেজিমের প্রধান পলাতক শেখ হাসিনার নির্দেশে কয়েকটি মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে আমরা লক্ষ করছি, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব রাজনৈতিক মামলার ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।