শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

এইচএসসিতে টানা দ্বিতীয় বছর ফল বিপর্যয়: ফেল করেছে প্রায় ৬ লাখ

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে
এইচএসসিতে টানা দ্বিতীয় বছর ফল বিপর্যয়: ফেল করেছে প্রায় ৬ লাখ

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় টানা দুই বছর ধরে বড় ধরনের ফল বিপর্যয় লক্ষ করা যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা যেমন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন, অর্থাৎ সার্বিক পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। বাকি ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছর ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৫ হাজার ৫৯২ জন বেড়েছে।

২০২৪ সালে এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট এবং গত দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হারে ধস নেমেছে ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট।

পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে তলানিতে নামছে। ২০২৪ সালে যেখানে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬৯ হাজার ৯৭ জনে। আর এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন। অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮২৭ জন। এবারের ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশ ভালো করেছেন। ছাত্রদের পাসের হার যেখানে ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। সব বোর্ড মিলিয়ে এবার ছাত্রদের চেয়ে ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও হতাশার চিত্র অব্যাহত রয়েছে। এ বছর ২০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২০২টি। অন্যদিকে, এবার শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ২০২টি।

ধারাবাহিক এই পতনের ফলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাঙ্গনের অস্থির পরিবেশ, প্রকট শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৈষম্য, শিক্ষায় অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দুর্বলতাই এই বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ। গত বছরের ফল বিপর্যয়ের পর এসব সমস্যা সমাধানে যেসব উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com