মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে নিন্দা, প্রত্যাহার ও অপসারণের দাবি বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু নেপালের নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব সাইবার ঝুঁকিতে বন্ধের ৩ দিন পর সচল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিপীড়ন ‘দুঃখজনক ও লজ্জাজনক’: ধর্মমন্ত্রী বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ৩ দিনের খাবার-পানি মজুতের নির্দেশনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব

ইচ্ছে করে রামদাটি আবার হাতে নিই-মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম

দিলীপ কুমার সাহা
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৬৪৭ বার পড়া হয়েছে

মুক্তিযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। দেশে যত দিন রাজাকার থাকবে, তত দিন মুক্তিযুদ্ধ চলবে। এবার সেই যুদ্ধে জয়ী হতে বর্তমান সরকার রাজাকারদের বিচার শুরু করেছে । আশা করছি সরকার তাদের বিচার কাজ সুষ্টু ভাবেই শেষ করবে। কথাগুলো কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগমের (৭২)।

১৯৭১ সালে যেসব নারী বীরত্বের সঙ্গে রণাঙ্গনে লড়াই করে সাহসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সখিনা বেগম তাঁদের মধ্যে একজন। ১৯৭১ সালে দা দিয়ে পাঁচ রাজাকারকে হত্যা করেন এই নারী মুক্তিযোদ্ধা। সখিনা বেগম বলেন, ‘সেদিন যারা ধর্ষণ করেছে, গণহত্যা করেছে, দেশের সম্পদ লুট করেছে, সেই রাজাকাররা এখন সদর্পে ঘুরে বেড়ায়। এ কথা মনে হলে মাথা গরম হয়ে যায়। ইচ্ছে করে একাত্তরের রামদাটি আবার হাতে নিই।’ নিকলী উপজেলার গুরুই গ্রামে সখিনা বেগমের জন্ম। ১৯৭১ সালে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা বসু বাহিনীর অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে সখিনা বেগম বিভিন্ন স্থানে সমুখ যুদ্ধে অংশ নেন। ১৯ অক্টোবর নিকলীকে মুক্ত করতে গিয়ে তাঁর বোনের ছেলে মতিউর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সমুখযুদ্ধে শহীদ হন।

অক্টোবরের শেষের দিকে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর হামলা চালান। যুদ্ধে বহু পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার নিহত হয়। সখিনা বেগম সেই যুদ্ধে একাই পাঁচ রাজাকারকে দা দিয়ে হত্যা করেন। তাঁর ব্যবহার করা ওই দা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। একাত্তরে সখিনা বেগমের সাহসিকতার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে সেই টাকা শেষ হয়ে যায়।বর্তমানে প্রতি মাসে যে দশ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান, সেই টাকাও ওষুধ কেনার জন্য ব্যয় করতে হয় অসুস্থ এই নারী মুক্তিযোদ্ধাকে। সোমবার দুপুর ১২ টায় নিকলী উডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় আসা সখিনা বেগমের সঙ্গে কথা হয়।

১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গুরুই গ্রামে তাঁকে তিন শতাংশ খাসজমি বরাদ্দ দেয়। কিন্তু টাকার অভাবে সেই জমি ও বিক্রি দেন। তাই বরমাইপাড়ায় খালার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বীরাঙ্গনা সখিনা বেগম। নিঃসন্তান সখিনা বেগমের স্বামী মারা গেছেন পাকিস্তান আমলেই। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন সখিনা বেগম। তিনি বলেন, দেশের শ্রেষ্ঠ সস্তানদের হত্যার বদলা নেওয়ার সময় এসেছে। রাজাকারদের বিচার বর্তমান সরকার শুরু যখন করেছে।

আশা করি এ সরকারই এর বিচার শেষ করেই ছাড়বে। এ বিচার কাজ শেষ করতে এখন নতুন প্রজন্মের সময়ের দাবি। নিকলী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সখিনা বেগম দুঃসাহসিক নারী মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও স্থানীয় রাজাকাররা তাঁর ভয়ে অনেক দিন পালিয়ে ছিল।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com