মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে আদমপুর বনবিট এলাকায় ৯৫টি পরিবার নিয়ে গড়ে উঠা কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জী। খাসিয়া পুঞ্জির বাইরে বস্তি এলাকায় আরও ৬০ পরিবার নিয়ে কালেঞ্জি গ্রাম। সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা করা হলেও এই দু’টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন না থাকায় প্রায় দেড়শ’ পরিবার ও সহ¯্রাধিক লোক বিদ্যুতের আলো বঞ্চিত। এছাড়াও নানা সমস্যায় জর্জরিত কালেঞ্জী ও খাসিয়া পুঞ্জীর সদস্যরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৫শ’ ফুট উপরে পাহাড়ি টিলার স্তরে স্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাস। আঁকা বাঁকা পথে ১৫২টি সিড়ি বেঁয়ে টিলার উপরে পুঞ্জীর হেডম্যানসহ অন্যদের বাসায় পৌঁছতে হয়। খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ পরিবারে প্রায় ৬শ’ লোকসংখ্যা। তাদের আয়ের প্রধান উৎস জুমের খাসিয়া পান ও লেবু। পুঞ্জির পার্শ্ববর্তী কালেঞ্জি গ্রামেরও ৫০টি পরিবারে প্রায় অর্ধ সহ¯্রাধিক লোকের বসবাস। তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগেও বিদ্যুতায়ন পৌঁছেনি এ দু’টি গ্রামে।
খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের অভিযোগে জানা যায়, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করেছে। অথচ এই দু’টি গ্রাম এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আসেনি। কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ পরিবারের দৈনন্দিন নানা সমস্যায় জর্জরিত পুঞ্জির সদস্যরা। বন বিভাগের আপত্তির কারনে এ দু’টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্ভব হচ্ছে না। পুঞ্জির নারী পুরুষ সদস্যরা টিলার নিচের কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে টিলার উপরে তুলে নিয়ে আসেন। বিদ্যুৎ সুবিধা প্রাপ্ত হলে বৈদ্যুতিক পাম্প বসিয়ে নিচ থেকে টিলার উপরে ঘরে ঘরে পানি তোলা যেতো। খাসিয়া সদস্যদের আয়ের প্রধান উৎস পাহাড়ি টিলায় জুমের পান। খাসিয়া পান বৃহত্তর সিলেটের ভাটি অঞ্চল ও যুক্তরাজ্যে সরবরাহ করা হয়।
আলাপকালে পুঞ্জি হেডম্যান রিটেঙেন ঘেরিয়েম বলেন, ‘আমাদের পুঞ্জির স্কুল-কলেজ পড়–য়া প্রায় ২শ’ ছাত্রছাত্রী বেশীর ভাগ সময়ে পায়ে হেটে ৯ কিলোমিটার পার হয়ে আদমপুরে যেতে হয়। সেখান থেকে গাড়ি যোগে কলেজে যেতে হয়। যাতায়াতের দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে খাসিয়া পরিবারগুলো দৈনন্দিন হাট বাজারে ৯ কিলোমিটার দূরের আদমপুর বাজারে যেতে হয়।’ ‘তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও রাস্তাঘাটের সমস্যার কারণে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘আদমপুর বনবিট অফিস থেকে তিন কি.মি. রাস্তা পাকাকরণ হয়ে গেলে এই পুঞ্জির যাতায়াত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের নজরে রয়েছে এবং নিজেও চেষ্টা করছেন বলে জানান। তবে বিদ্যুতায়নের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম গণেশ চন্দ্র দাশ বলেন,‘আমি নতুন যোগদান করেছি। তবে সরজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’