কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক চান মিয়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। এঘটনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংস্পর্শে আসা ভৈরব থানার ওসিসহ থানার সকল পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ওসিসহ ৩১জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে এবং বাকি ৩৩জনকে স্থানীয় শহীদ আইভ রহমান পৌর স্টেডিয়ামে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা সেবাদান কারি ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাচঁজন চিকিৎসককেও কোয়ারেন্টিনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভৈরব উপজেলাকে লক ডাউন ঘোষনা করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা পুলিশ লাইন থেকে ৩৫জন পুলিশ সদস্য ভৈরব থানায় যোগদান করেছেন। ভৈরবে এখন পর্যন্ত ১৭জনের নমুনা পরীক্ষা করে একজনকে করোনা সংক্রমণে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া পুলিশ সদস্যকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্থি করা হয়েছে।
গত ২০জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানা থেকে বদলী হয়ে ভৈরব থানায় যোগদান করেন এস আই চান মিয়া। পরে কয়েকদিন যাবৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরেন তিনি। জ্বর, মাথা বেথাসহ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ থাকায় এস আই চান মিয়ার প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিয়ারে পাঠানো হয়। একই সময় নারায়নগঞ্জ থেকে গোপনে পালিয়ে এসে ভৈরবে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থানরত তিন পরিবারের চারজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে পরীক্ষা শেষে ভৈরব থেকে পাঠানো ৫জনের মধ্যে পুলিশ সদস্যে রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে বলে জানায় আইইডিসিয়ার।
এ খবর পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক জারিকৃত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ভৈরব উপজেলাকে লকডাউন ঘোষনা করা হয়। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের কক্ষ, হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সর্বশেষ ডিউটিস্থল শম্ভপুরসহ পৌর শহরের কমলপুর, চন্ডিবের, চকবাজার, উপজেলার আকবর নগর বাজার, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন ও শিবপুর ইউনিয়নকে সম্পুর্ণ অবরুদ্ধ ঘোষনা করা হয় পাশাপাশি পুরো উপজেলায় সন্ধ্যা ৬টার পর ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
এছাড়াও নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা।