বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
ঢাকা মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত পাকুন্দিয়ায় ২১ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কিশোরগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু স্পেনে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত আইইডিসিআর পরিচালকের কক্ষে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাব কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে জাপান কিশোরগঞ্জে ইমরান হত্যা: অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, পুড়ল ৩ ঘর চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে রুশ বাহিনীতে নিয়োগ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে করোনার প্রভাবে হুমকির মুখে পোল্ট্রি শিল্প

খন্দকার মোহাম্মাদ আলী, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪৫৮ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পোল্ট্রি খামারীদের প্রতিনিয়ত লোকসান গুণতে হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এ শিল্প। শিল্পটি বাঁচাতে সরকারি ভাবে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করা জরুরী বলে মনে করছেন অনেকেই।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩শ’ ১৩টি খামারের ৩শ’ ৫৪ জন মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে। খামারগুলোতে ৫ লক্ষ ৬১ হাজার ৩শ’ ৩০টি মুরগি রয়েছে। এর মধ্যে সোনালী ৪ লক্ষ ২০ হাজার, বয়লার ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৭শ’ ৩০ এবং লেয়ার জাতের মুরগি রয়েছে ১১ হাজার ৬শ’ টি। সোনালী ও বয়লার মুরগি থেকে দৈনিক ৪ হাজার ৬শ’ ২৩ কেজি মাংস ও লেয়ার মুরগি থেকে ৭ হাজার ৭শ’ ৩০টি ডিম উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু করোনার প্রভাবে উৎপাদনের তুলনায় মুরগি ও ডিমের চাহিদা কমেছে অনেক। আগে খামারীরা সোনালী মুরগি বিক্রি করত ২শ’ ২০ টাকা কেজি, বয়লার ১শ’ ১০ টাকা আর ডিম বিক্রি করত প্রতিটি ৬ টাকা ২৫ পয়সায়। আর এখন সোনালী মুরগি ১শ’ ৪০ টাকা, বয়লার ৭০ টাকা কেজি আর ডিম প্রতিটি ৪ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারীদের। অব্যাহত লোকসানের কারণে অধিকাংশ খামারীদের মূলধন প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর মূলধন না থাকলে খাদ্য কেনার মত অর্থ থাকবে না তাদের। কিন্তু এই দুঃসময়েও খামারীদের প্রতি কারো নজর নেই। নজর নেই যে শিল্প থেকে দেশের জনগোষ্ঠীর ২৫ থেকে ৩০ ভাগ প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটে সেই শিল্পটির প্রতি।

 

উপজেলার নান্দিনামধু গ্রামের খামারী এনামুল কবীর রিপন জানান, আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে চাকরির খোঁজ না করে লেয়ার মুরগির খামার করি। সেখানে অনেক পরিশ্রমের পর অবশেষে সফলতা। তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বার্ড ফ্লু’র তান্ডবে লন্ডভন্ড খামার, ভেঙ্গে যায় স্বপ্ন। তাতেও থামিনি। আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ভালই চলছিলাম প্রায় ১যুগ। আবারো বিপর্যয়! কিন্তু এবার বার্ড ফ্লু নয়। করোনা ভাইরাস। এর ফলে মুরগি সংক্রমিত না হলেও বিশ্ব ব্যপি সংক্রমিত হয়েছে বহু মানুষ। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের মানুষের উপর। প্রভাব পড়েছে পোল্ট্রি শিল্পেও। আমার খামারে ২ হাজারের উপর লেয়ার মুরগি রয়েছে। প্রতিদিন মুরগির ৯ হাজার টাকার খাবার লাগে। আমার মূলধন শেষ। ঋণ করে খামার চালাচ্ছি। উৎপাদন খরচের তুলনায় ডিম ও মুরগির দাম কমে যাওয়ায় প্রতিদিন লোকসান গুণতে হচ্ছে। সরকারি কোন অনুদান বা প্রণোদনা না পেলে হয়তো আর খামার চালাতে পারবো না।

 

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় কামারখন্দে পোল্ট্রি এবং ডেইরি খামারিদের খোঁজখবর নেয়া হয়। পোল্ট্রি খামারিদের ক্ষেত্রে দেখা যায় ডিম এবং মাংসের দাম অত্যন্ত কম এবং বাজারে চাহিদা কম থাকায় বর্তমানে ডিম প্রতিটি ৪ টাকা এবং বয়লার মুরগী ৭০ টাকা কেজি দরে এবং সোনালী ১শ’ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে প্রতিদিন উপজেলার পোল্ট্রি খামারিদের ২ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর খামারিদের খোঁজখবর নিচ্ছে কিন্তু কোন আর্থিক সহায়তা দিতে পারছে না। প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা আর হতাশায় দিন গুনছে কামারখন্দ উপজেলার বহু খামারী। আবারো কবে ফিরবে সুদিন? খামারীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন। এই বিপদের সময় সরকার পূর্বের মত তাদের পাশে থাকবে এমন প্রত্যাশা খামারীদের।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com