বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
পাকুন্দিয়ায় ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ একজন গ্রেপ্তার হোসেনপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা নওগাঁয় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ব্যাংক কর্মচারীর কিশোরগঞ্জে হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত, সনদ পেল ৪০ শিক্ষার্থী ভোটগ্রহণ শেষে আসতে শুরু করেছে ফলাফল, নজর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের দিকে কিশোরগঞ্জে অনূর্ধ্ব-১৪ হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট শুরু পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান গ্রেপ্তার ৩ নওগাঁয় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়ার আ’লীগ নেতা নবারের মৃত্যু দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাঁশ শিল্পে স্বাবলম্বী মতি মিয়া 

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে
বাঁশ শিল্পে স্বাবলম্বী মতি মিয়া 
লেখা পড়ায় প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্বেও বাবার অভাবের সংসার ও  কানে কম শুনতে পাওয়ার কারণে স্কুল ত্যাগ করে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের নিরাহারগাতি গ্রামের মতি মিয়া। বয়স ৬০ছুইছুই।
আর্থিক অস্বচ্ছলতায় কিশোর বয়সেই বাবার হাত ধরেই মতি বেছে নেয় বাঁশের তৈরি ঘরের বেড়া, সিলিং, দরমার কাজ। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এ কাজে নিয়োজিত। এখন বাঁশের তৈরি সিলিং কাজে একজন দক্ষ করিগর মতি।  মাসে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় তার।
বাঁশ দিয়ে ঘরের বেড়া,সিলিং,দরমাসহ নানা জিনিস  তৈরি করেন তিনি। তবে দুই এক দিন পর পর গ্রামে ঘুরে ঘুরে বাঁশ কিনতে হয় তার। তারপর সেই বাঁশ  এনে তার থেকে তৈরি করেন ঘরের বেড়া, সিলিং। তাঁর অধীনে ৬জন শ্রমিকে কাজ করেন। তার নিপুণ হাতে  আকর্ষনীয় করে তোলেন প্রত্যেকটি  কাজ। কাজে বিমোহিত হয়ে দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসেন তার কাছ থেকে ঘরের সিলিং ক্রয় করতে। এজন্যই তার ব্যস্ততা অনেক বেশি। কানে কম শুনেন তিনি ।তাই অনেক সময় মানুষের কথা বুঝতে কষ্ট হয়। তবুও থেমে নেই তার পথচলা।
মতি মিয়া জানান, তার তৈরি ঘরের বেড়া,সিলিং,দরমা স্থানীয় ভাবে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার সৌখিন মানুষেরা ঘরের সিলিং, বাঁশের তৈরি বেড়ার জন্য অগ্রিম বায়না দিয়ে থাকে তারে। একটি মাঝারি ধরনের সিলিং বিক্রি হয় ১৫০০ থেকে ১৮০০টাকায়। এতে তার মাসিক আয় হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এ উপার্জন দিয়ে সে সংসারের খরচ ও পাঁচ ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। মতির দেখাদেখি গ্রামের অনেক বেকার যুবক এ পেশায় এগিয়ে এসেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় মতি মিয়াসহ  অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। মতি মিয়ার প্রতিবেশী সুরুজ মিয়া জানান, একজন দক্ষ বাঁশের কারিগর মতি নিজের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করে সমাজে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাইয়ুম খোকন জানান, মতির মতো আরও অনেকেই এ কুটির শিল্প কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তবে সরকারের সামান্য পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে তারা তাদের ভাগ্য বদলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এহসানুল হক জানান, নিরহারগাতি গ্রামের বাঁশের কারিগর মতির মতো আরও ৩৬জন কারিগরদের নামের জরিপ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে সাবলম্বি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হোসেনপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো.আবুল কাশেম বলেন, ‘উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ-বেতের পণ্য তৈরি করে অনেক পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা এনেছেন। অন্যান্য স্থানেও এই কাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। উপজেলায় অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে সরকারি ঋণ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে যদি কারো সরকারি ঋণের প্রয়োজন পড়ে তাহলে যোগাযোগ করার জন্য বলেন তিনি।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com