মাতৃহারা চশমাপরা হনুমান শাবকটিকে শেষপর্যন্ত বাঁচানো গেল না। গত সোমবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকার জানকীছড়া রেসকিউ সেন্টারে শাবকটি মারা গেছে।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এই হনুমান শাবকটির মা মারা যায়। এসময় শাবকটি ছিল মাত্র ২দিন বয়সের। সেখান থেকে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লোকজন শাবকটিকে উদ্ধার করে জানকীছড়া রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে আসে। এরপর সেখানেই তার সেবা-শুশ্রুষা ও পরিচর্যা চলছিল। জার্মানির প্লামপ্লরিস ই ভি নামের একটি সংস্থা হনুমানের বাচ্চাটির লালনপালনে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সকালে হনুমান শাবকটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি রেসকিউ সেন্টারে গিয়ে দেখেন শাবকটি আর বেঁচে নেই। চশমাপরা হনুমান শাবকটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা বন্যপ্রানী গবেষক চঞ্চল গোয়ালা বলেন, গত সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ভালো অবস্থায় শাবকটিকে তার জন্য নির্দিষ্ট ঝুড়ির মধ্যে রেখে এসেছিলেন। এসময় তার মধ্যে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে গিয়ে দেখেন মরে আছে। ও যে মারা যাবে বুঝতে পারিনি। মনটাই খারাপ হয়ে আছে। একেবারে মানুষের বাচ্চার মতো ছিল। সব সময় আদর চাইতো।’
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী চশমাপরা হনুমান শাবকটির মৃত্যু নিশ্চিত করে বলেন, ‘বাচ্চাটা খুব কিউট ছিল। মনটাই খারাপ হয়ে গেছে। আসলে এসব বাচ্চা দুই-তিন মাস মায়ের পেটের সাথে ঝুলে থাকে। মায়ের দুধেরও কোনো বিকল্প নেই।